মালদা: SIR শুনানির (SIR hearing) শেষদিনে মহিলাদের চরম হয়রানির ছবি ধরা পড়ল মালদায়। কারও কোলে সদ্যোজাত শিশু তো কেউ গর্ভবতী, সেই অবস্থাতেই ঘন্টার পর ঘন্টা SIR শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেন অসহায় মায়েরা। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই সন্তান প্রসবের তারিখ, তা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী।
সকাল ৮ টা থেকে মালদার ইংরেজবাজারের নরহাট্টার দুর্গাপুরের ৮৬ নম্বর বুধের দুর্গাপুর প্রাথমিক স্কুলের বাইরে সেই ছবিই ধরা পড়ল। লাইনে অপেক্ষারত এক মহিলা জানান, সকাল ৯ টায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বাড়ি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। কোলে এক মাসের সন্তানকে নিয়েই SIR শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন তিনি।
মহিলারা জানান, স্বামীরা ভিন রাজ্যে থাকায় সঙ্গে করে কাউকে আনা সম্ভব হয়নি। আবার বুকের দুধ খাওয়া শিশুদের বাড়িতে রেখে আসাও সম্ভব নয়। কিন্তু, শুনানিতে (SIR hearing) হাজির না হলে যদি নাম বাদ যায়। সেই আশঙ্কা থেকেই ছুটে এসেছেন দূরদূরান্ত থেকে।
মর্গ থেকে SIR শুনানির লাইনে
শনিবার SIR শুনানির (SIR hearing) শেষদিনে মালদাতেই আরও এক মর্মান্তিক ছবি ধরা পড়েছে। মালদার গাজোল থানার খারদাহিল এলাকার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক এমডি ইয়াসিন আনসারি স্ত্রী ও ন’মাসের শিশুপুত্রের মরদেহ মর্গে রেখে SIR শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছন। বৃহস্পতিবার রাতে ইংরেজবাজারের আমবাজারে দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী-পুত্র মারা যান।
রাজ্যের একাধিক জায়গায় SIR শুনানি (SIR hearing) প্রক্রিয়া ঘিরে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রশাসনিক নমনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যক্তিগত শোকের চরম মুহূর্তেও শুনানিতে হাজিরা দিতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় স্তব্ধ বাংলার মানুষ।


