কলকাতা: ৩৪ বছরের রাজত্বের ইতিহাস আজ শরীকি বিবাদ, জোট-জটিলতার মাঝে অস্তিত্ব সংকটে মলিন। দীর্ঘ ১ দশকের জোট ভেঙে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, বামফ্রন্টের (Leftfront) শরীক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্যের কথা সরাসরি স্বীকার করেছেন সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের (MD Salim) বৈঠকের ধোঁয়াশা এখনও অব্যাহত। দল না কি নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় হুমায়ুন কবিরের অঙ্গে পাঁচতারা হোটেলে বৈঠক করেছিলেন মহম্মদ সেলিম? সেই প্রশ্নই বর্তমানে ঘোরাফেরা করছে বিশেষজ্ঞ মহলে। অন্যদিকে, আইএসএফের সঙ্গেও জোট করতে নারাজ শরীকদের একাংশ। এই অবস্থায় আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে সিপিএম বলে দাবী করেছেন মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কি।
জোট বাঁধতে মরিয়া?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কংগ্রেস সরে যাওয়ায় যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছে বামেরা (Leftfront) । বর্তমান পরিস্থিতিতে জোট করতে এতটাই মরিয়া যে মতাদর্শের মিল হলে বিজেপি ছাড়া যেকোনো রাজনৈতিক দলের হাত ধরতে তারা প্রস্তুত।
কটাক্ষের ঝড়
অন্যদিকে, সিপিআইএমের এই দিশাহীনতা নিয়ে কটাক্ষের সুর চড়িয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র অরূপ বিশ্বাস কটাক্ষের সুরে বলেন, “কংগ্রেস তাও একা লড়ার ক্ষমতা দেখিয়েছে। কিন্তু ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বামেদের এতই করুন অবস্থা যে জোট করার জন্য লোকের দুয়োরে দুয়োরে ঘুরতে হচ্ছে।”
বলা বাহুল্য, ছাব্বিশের ভোটের আগে তৃণমূল-বিজেপি দ্বিমুখী সংঘাতে ‘টুইস্ট’ যোগ করেছেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির। নিজের নতুন দল জনতা উন্নয়ন পার্টি নিয়ে ময়দানে নামতে প্রস্তুত তিনি। এমনকি মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জল্পনার মাঝেই মিমের সঙ্গে জোট ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। অন্যদিকে, একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এবার বামফ্রন্ট (Leftfront) কি পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।


