স্নেহা পাল, দিল্লি: এম/এস মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডের অভিযোগ থেকে সূত্রপাত হওয়া মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় অভিনেতা রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) বৃহস্পতিবার দিল্লির তিহার জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়াতে অস্বীকার করে দিল্লি হাই কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরই তিনি জেলে যান।
জেল সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা নাগাদ রাজপাল যাদব আত্মসমর্পণ করেন। এরপর নিয়ম অনুযায়ী জেল কর্তৃপক্ষ স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর (SOP) অনুসরণ করে।
হাই কোর্টে আবেদন খারিজ
এর আগে বুধবার দিল্লি হাই কোর্ট আত্মসমর্পণের সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন খারিজ করে দেয়।অভিনেতার আইনজীবী আদালতে জানিয়েছিলেন, ৫০ লক্ষ টাকা জোগাড় করা হয়েছে এবং বাকি অর্থ পরিশোধের জন্য আরও এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। তবে বিচারপতি স্বরণ কান্তা শর্মা এই আবেদন নাকচ করেন।
বিশেষ ছাড় নয়, কড়া বার্তা আদালতের
আদালত জানায়, শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তি বিশেষ কোনও শিল্প বা পেশার সঙ্গে যুক্ত এই কারণে বিশেষ ছাড় দেওয়া যাবে না। বারবার আদালতের নির্দেশ অমান্য হলে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত নমনীয়তা দেখানো সম্ভব নয় বলে জানান বিচারপতি।
এম/এস মুরলি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড সংস্থার অভিযোগ ছিল, ২০১০ সালের “আতা পাতা লাপাতা” চলচ্চিত্রের জন্য নেওয়া ৫ কোটি টাকা পরিশোধের সময় রাজপাল যাদব (Rajpal Yadav) ও তাঁর স্ত্রীর দেওয়া একাধিক চেক বাউন্স হয়, ফলে তাঁরা নির্ধারিত অর্থ ফেরত পাননি। ২০১৮ সালে দিল্লির এক ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে রাজপাল যাদবকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়।
উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ
২০১৯ সালে সেশনস কোর্টও সেই রায় বহাল রাখার পর অভিনেতা দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন করেন। ২০২৪ সালের জুনে হাই কোর্ট সাময়িকভাবে সাজা স্থগিত রেখে দুই পক্ষকে মীমাংসার পথ খুঁজতে বলেছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের বদলে আরও ৯ কোটি টাকা বকেয়া থাকায় চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে এই আইনি প্রক্রিয়ায় বলিউডের কোনও সংগঠন বা বিশিষ্ট সহকর্মীর থেকে বহু বছর বলিউডের সাথে যুক্ত এই অভিনেতার পক্ষে প্রকাশ্যে কোনও সমর্থন পাওয়া যায়নি।


