স্নেহা পাল, দিল্লি : প্রধানমন্ত্রীর (PM) বক্তব্যের মাঝপথে প্রতিবাদ বা ওয়াকআউট প্রায় পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু আজ যা দেখা গেল তা অভাবনীয়। সংসদীয় সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ বছরে এই ধরনের ঘটনা এই প্রথম।
বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের শেষে প্রধানমন্ত্রীর (PM) বক্তব্যের ঠিক আগে লোকসভায় তীব্র হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী সাংসদদের স্লোগান, চিৎকার ও কাগজ ছোড়াছুড়ির মধ্যে সংসদের কার্যক্রম মুলতুবি করে দেন স্পিকার ওম বিড়লা। ফলে প্রধানমন্ত্রী ভাষণ না দিয়েই সংসদ ছাড়েন।
বাজেট অধিবেশনের শুরু থেকেই বিরোধীদের প্রতিবাদে সংসদের কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হয়। লোকসভায় অচলাবস্থার প্রভাব পড়ে রাজ্যসভাতেও। সভা শুরুর আগে বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাদের বৈঠক হয়। চলতি বাজেট অধিবেশনে দুই কক্ষেই টানা অচলাবস্থার প্রেক্ষিতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
লোকসভায় গত কয়েকদিন ধরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বৃহস্পতিবারও দিনের শুরুতেই হইচইয়ের জেরে প্রথম দফায় অধিবেশন মুলতুবি হয়। পরে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র স্লোগানের কারণে দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত রাখা হয়।
এই পরিস্থিতিতে স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী সাংসদদের সংসদীয় শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখার আবেদন জানান। তিনি বলেন, নিয়ম মেনে সংসদ চালানো সকলের দায়িত্ব।
রাজ্যসভায় লোকসভার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি জেপি নাড্ডার সঙ্গে তীব্র বাক্যবিনিময় হয় মল্লিকার্জুন খাড়গের। খাড়গে বলেন, দেশের স্বার্থে বিরোধী দলনেতাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর জবাবে নাড্ডা জানান, লোকসভার কার্যাবলি রাজ্যসভায় আলোচনার বিষয় নয়।
এদিকে রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংসদের নিয়ম ও ঐতিহ্য মানার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ সাংসদই প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু সংসদীয় নিয়ম মানা হয়নি বলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তবে লোকসভায় ভাষণ না দিতে পারলেও, প্রধানমন্ত্রী মোদী রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের বিতর্কে বক্তব্য রাখেন বলে সংসদীয় সূত্রে জানা গেছে।


