স্নেহা পাল, দিল্লি: চলতি বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে লোকসভায় (Parliament) শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। লাদাখে ২০২০ সালের চিনা আগ্রাসন ইস্যু তোলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
লাদাখ ইস্যু নিয়ে অভিযোগ
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, গালওয়ান সংঘর্ষের আগেও ভারত ক্রমাগত চিনের কাছে জমি হারিয়েছে, অথচ সরকার বিষয়টি নিয়ে নীরব। বক্তব্যের পক্ষে তিনি প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত আত্মজীবনীর অংশ উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন।
এই সময় বিজেপি সাংসদদের আপত্তিতে সংসদে হট্টগোল শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভা স্পিকার ও শাসকদলের সাংসদরা রাহুল গান্ধীর বক্তব্য মাঝপথে থামিয়ে দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং কয়েকজন বিরোধী সাংসদের বিরুদ্ধে স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়ার অভিযোগ ওঠে।
শৃঙ্খলাভঙ্গে সাসপেন্ড ৮ সাংসদ
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কংগ্রেস ও বাম মিলিয়ে আট সাংসদকে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। সাসপেন্ড হওয়া সাংসদরা হলেন হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম টাগোর, গুরজিৎ সিং আউজলা, সি কিরণ কুমার রেড্ডি, প্রশান্ত পোডোলে, ডিন কুরিয়াকোস (কংগ্রেস) এবং এস ভেঙ্কটেশন (সিপিআইএম)।
চেয়ারের প্রতি আচরণ নিয়ে আপত্তি
লোকসভার কার্যভার সামলানো টিডিপি সাংসদ কৃষ্ণপ্রসাদ টেনেটি জানান, চেয়ারকে ‘ইয়ার’ বলে সম্বোধন করা এবং পরে টেবিলের দিকে এগিয়ে এসে কাগজ ছোড়া সংসদীয় রীতির পরিপন্থী। তাঁর কথায়, এটি কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য আচরণ নয়।
সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিরোধীদের লাগাতার বাধার জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়। বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, সংসদ ও সেনাবাহিনীকে অপমান করাই বিরোধীদের উদ্দেশ্য।
প্রতিবাদে বিক্ষোভ কংগ্রেসের
অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে বলা হয়েছে, বিরোধী দলনেতাকে কথা বলতে না দেওয়ায় প্রতিবাদ জানানো যদি অপরাধ হয় তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক। সাসপেনশনের প্রতিবাদে সংসদ ভবনের বাইরে মকর দ্বার গেটে বিক্ষোভে যোগ দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও একাধিক কংগ্রেস সাংসদ। তাঁদের অভিযোগ, সংসদে বিতর্কের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।


