স্নেহা পাল, বেঙ্গালুরু: লন্ডন বিমানবন্দরের রানওয়েতে প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর পরই হঠাৎই থেমে যায় এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার। মাঝপথে যাত্রীদের বোর্ডিং থামিয়ে দেওয়া হয়। প্রি-ফ্লাইট পরীক্ষার সময় বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির আশঙ্কা জানান পাইলট।
ফের প্রশ্নে ড্রিমলাইনারের নিরাপত্তা
এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) তরফে জানানো হয়েছে, লন্ডন থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়ার কথা ছিল ফ্লাইট AI 132-এর। উড়ানের আগে পাইলট বিমানের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সম্ভাব্য সমস্যার ইঙ্গিত দেন। সেই তথ্য পাওয়ার পরই বিমানটি গ্রাউন্ড করা হয় এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট নির্মাতা সংস্থা (OEM)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমাদের এক পাইলট বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচে সম্ভাব্য ত্রুটির কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত পরীক্ষা চলছে।”
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফের উঠে এসেছে ২০২৫ সালের ১২ জুনের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ। সেদিন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডন গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমান টেক-অফের পরপরই ভেঙে পড়ে। ওই দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়।
ওই দুর্ঘটনার প্রাথমিক রিপোর্টে এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) জানায়, উড়ানের কিছুক্ষণের মধ্যেই এক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুই ইঞ্জিনে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে ককপিটে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।
কারিগরি সতর্কতা নিয়ে দ্বন্দ্ব
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ডিজিসিএ-র নির্দেশে তারা আগেই তাদের বহরের সমস্ত বোয়িং ৭৮৭ বিমানের ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ পরীক্ষা করেছে এবং তখন কোনও ত্রুটি পাওয়া যায়নি। সেই অবস্থানই ফের স্পষ্ট করেছে সংস্থা। কিন্তু সেই দুর্ঘটনার পর পরই বেশ কয়েকবার ফ্লাইটে গোলমালের কারণে চাপে রয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া।


