স্নেহা পাল, কলকাতা: ভোটের ঢাকে কাঠি পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে নতুন লাইন টানল কেন্দ্র। রবিবার কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের রেল (Railway) পরিকাঠামো সম্প্রসারণে একাধিক ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শিলিগুড়ি থেকে উত্তরপ্রদেশের বারাণসী পর্যন্ত একটি প্রস্তাবিত হাই-স্পিড রেল করিডরের কথা জানান তিনি। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গে তিনটি নতুন রেললাইন প্রকল্পে ছাড়পত্র দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
রেল বাজেটে এ বছর মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ₹২.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের আওতায় পূর্ব ভারতের রেল ক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন রুট তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি – বারাণসী (Siliguri – Varanasi) হাই-স্পিড রেল করিডরকে উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ, বাণিজ্য ও পর্যটনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রেল দফতর।
সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্য
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় রায়গঞ্জ – ডালখোলা, গাজোল – ইতাহার এবং রায়গঞ্জ – ইতাহার এই তিনটি রুটে নতুন রেললাইন প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয় রেল মন্ত্রক। রেল দফতর জানিয়েছে, নতুন লাইনগুলি ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে রেল যোগাযোগকে আরো শক্তিশালী করে তুলবে।
প্রকল্পের খরচ ও পরিকাঠামো
সবচেয়ে দীর্ঘ রেললাইন রায়গঞ্জ ডালখোলার প্রকল্পে পাঁচটি স্টেশন, ১৩টি বড় সেতু, ছয়টি রোড ওভারব্রিজ, ৯৭টি ছোট সেতু এবং ৩২টি আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ₹২৯১.৫৩ কোটি।
গাজোল ইতাহার রেললাইনটির খরচ ধরা হয়েছে ₹৮৫.৫৯ কোটি যেখানে ১২টি বড় ও ৩৭টি ছোট সেতু নির্মাণ করা হবে।
রায়গঞ্জ ইতাহার রেললাইনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ₹১২৯.৩৪ কোটি। এই রুটে রায়গঞ্জ, রূপাহার হল্ট, দুর্গাপুর ও ইতাহার এই চারটি স্টেশন থাকবে।
তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বাজেট ভাষণে বাংলার নাম একবারও উল্লেখ করা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রের বাজেটকে কটাক্ষ করে বলেন, বাংলার জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
তবে রেল দফতরের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের এই রেল প্রকল্পগুলি দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে সাহায্য করবে।


