নয়াদিল্লি: মমতার (Mamata Banerjee) SIR-প্রতিবাদে সরগরম রাজধানী। বঙ্গভবনে অবস্থিত ‘এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্তদের পরিজনদের’ “হেনস্থা”? এদিন হেইলি রোডে বঙ্গভবনের সামনে গর্জে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, দিল্লির বঙ্গভবনকে কার্যত ঘিরে ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী।
মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, “ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ। এটা ওরা করতে পারে না। এসআইআর-এ মৃতদের পরিবার আমাদের সঙ্গে রয়েছেন।” সোমবার সকালে নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এলে রেড কার্পেট আর আমাদের জন্য ব্যাক কার্পেট?”
“দিল্লি পুলিশের ‘মাথার’ বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেন, “দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই। কিন্তু তাঁদের মাথায় যিনি বসে আছেন তাঁর অঙ্গুলিহেলনেই এসব হচ্ছে। ১৫০ জন মানুষ এসআইআর-এর কারণে মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের লোকেরা এখানে আছেন। ঘরে ঢুকে তল্লাশি করতে পারে না। তাঁদেরকে কেন আতঙ্কিত করছেন?” মূলত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে হেইলি রোডে গর্জে ওঠেন মমতা।
বাঙালিদের হেনস্থার অভিযোগ
একদিকে এসআইআরে মৃত্যু অন্যদিকে, রাজধানীতে বাঙালিদের হেনস্থা, সোমবার দিল্লির হেইলি রোডে এই জোড়া অভিযোগে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাঙালিদের কেন বারবার হেনস্থা? বঙ্গভবনে যারা রয়েছেন তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এসেছেন।”
চাণক্যপুরী থেকে হেইলি রোড, দাপিয়ে বেড়ালেন মমতা
তল্লাশির খবর পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে চাণক্যপুরীর বঙ্গভবনে পৌঁছে এসআইআরে মৃতদের পরিবারগুলির সঙ্গে একে একে দেখা করে তাঁদের খোঁজখবর নেন তিনি। কারও কোনও সমস্যা হচ্ছে কি না, তা জানতে চেয়ে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সোম ও মঙ্গলবারের নির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে না বলেও স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী। কোনও অসহযোগিতার শিকার হলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর বার্তাও দেন তিনি।
এরপর সোজা হেইলি রোডের বঙ্গভবনে পৌঁছে ফের সংবাদমাধ্যমের সামনে অমিত শাহের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন তিনি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “আমাকে দেখাবেন না, ক্যামেরায় দেখান কীভাবে বঙ্গভবন ঘিরে রেখেছে দিল্লি পুলিশ।” মমতার (Mamata Banerjee) অভিযোগ, SIR-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, বাংলার দুর্নাম করা হচ্ছে। তাঁর কটাক্ষ, “দেশে স্বৈরাচারী সরকার চলছে। আমাকে দুর্বল ভাবার কোনও কারণ নেই। দিল্লিতে গরিব মানুষের কোনও জায়গা নেই।”


