নয়াদিল্লি: ভোটমুখী রাজ্য হওয়া সত্ত্বেও নবম বাজেটে (Budget 2026-27) কার্যত নামগন্ধই থাকলো না পশ্চিমবঙ্গের। ২০২৫ এ বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে বিহারের জন্য কার্যত ঢালাও ঘোষণা করেছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ (Nirmala Sitharaman)। তবে রবিবারের ২০২৬-২৭ এর বাজেটে পশ্চিমবঙ্গকে ‘ব্রাত্য’ করে তৃণমূলের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বিজেপি, বলেই মনে করছেন অনেকে। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেও ছাড়লেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
এদিন দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে জোর কটাক্ষ ছুঁড়ে দিলেন তিনি। তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “বাংলায় ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে এরকম বঞ্চনা”। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় বাজেটকে (Budget 2026-27) ‘গারবেজ অব লাই’ বা মিথ্যার জঞ্জাল বলেও কটাক্ষ করলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগ, “বাংলার থেকে টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটা টাকাও রাজ্যকে দিচ্ছে না। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সব আমাদের টাকা”। “বাংলার জন্য এক পয়সাও দেয়নি। এটা একটা ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট”, বলে তীব্র কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সুরে কেন্দ্র সরকারকে বাংলার সঙ্গে ‘দুয়োরাণী সুলভ’ আচরণ বলে বিঁধেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তিনি বলেন, “৮৫ মিনিটের ভাষণে বাংলার জন্য কিছু নেই। এই বাজেট (Budget 2026-27) দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন”।
কি কি পেল রাজ্য?
প্রসঙ্গত, বিহারের পর বাংলা দখলের লড়াইয়ে সুর চড়িয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্প্রতি সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা, নবনিযুক্ত বিজেপি জাতীয় সম্পাদক নিতিন নবীনের দুর্গাপুর সভা এমনকি ঠিক গতকালই শিলিগুড়িতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভার পর ধারণা করা হচ্ছিল, ভোটের আগে বাজেটে (Budget 2026-27) বাংলাকে ‘খুশি’ করতে পারে কেন্দ্র।
কিন্তু ৮৫ মিনিটের বাজেট-বক্তৃতায় বাংলার নাম শোনা গেল যৎসামান্যই। দিল্লি-বারাণসী-শিলিগুড়ি রেল করিডোর, ডানকুনি এবং সুরাতের মধ্যে ডেডিকেটেড ফ্রেট (পণ্য) করিডোর এবং দুর্গাপুরে শিল্প করিডোরের প্রস্তাব ছাড়া সন্তোষজনক কিছুই শোনা গেল না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


