নয়াদিল্লি: সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে মমতার ‘তুরুপের তাস’ লক্ষ্মীর ভান্ডারের (Lokkhir Bhandar) ভাতা বৃদ্ধির জল্পনা তুঙ্গে। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট পেশ। লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lokkhir Bhandar) , কন্যাশ্রী, খাদ্যসাথী এবং স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুঙ্গে, বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এগিয়ে থাকতে ভাতা নির্ভর রাজনীতির জেরেই ফাঁকা হচ্ছে কোষাগার!
সম্প্রতি প্রকাশিত ভারতের আর্থিক সমীক্ষার (Economic Survey 2025-26) রিপোর্টে এই আশঙ্কাই প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মত কোথাও লাডলি বেহনা যোজনা, কোথাও ঋণে সুদ মকুব, অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা দিয়ে দেয় সরকার। সম্প্রতি বিধানসভা ভোটে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা দিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেন নীতিশ কুমার।
দেদার ভাতা প্রকল্পে উদ্বেগ
রাজনৈতিক দলগুলির কাছে ভাতা অন্যতম নির্বাচনী অস্ত্র হলেও, দেদার ভাতা দেওয়ার জেরে রাজ্যের আর্থিক ভারসাম্য দুর্বল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে বলে জানাচ্ছে আর্থিক সমীক্ষা (Economic Survey 2025-26)। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে উন্নয়নমূলক কাজে। উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের জন্য হাতে টান পড়ছে রাজ্যগুলোর। যার প্রভাব জিডিপি-তেও পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।
ভাতা দিয়ে রাজস্ব ঘাটতি
সমীক্ষা বলছে, ২০২৫-২৬ আর্থিক বর্ষে ভাতা দেওয়া মোট টাকার পরিমাণ প্রায় ১.৭ লক্ষ কোটিটে পৌঁছোতে পারে। গত অর্থবর্ষগুলিতে যেসব রাজ্য মানুষকে নগদ টাকা দিয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই রাজস্ব ঘাটতির মধ্যে রয়েছে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, গত তিন বছরে দেশে মহিলাদের ভাতা প্রদানকারী রাজ্যের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়েছে।
নগদ অর্থ বিলির জেরে রাজ্যগুলির মোট দেশজ উৎপাদনের (GDP) ০.৯ থেকে ১.২৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। এর ফলেই একদিকে রাজকোষের উপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে রাজস্ব ঘাটতিও ক্রমশ গভীর হচ্ছে বলে আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে সেই তুলনায় বিনিয়োগ নেই বললেই চলে।
সতর্ক করেছে সার্ভে
যেসব রাজ্যগুলো আর্থিকভাবে দুর্বল তারা এভাবে দেদার ভাতা দিতে থাকলে বড়সড় আর্থিক ঘাটতি এড়ানো অসম্ভব বলে সতর্ক করেছে আর্থিক সমীক্ষা। তবে তার মানে এই নয় যে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়াই সমাধান। বরং বাজেটে অগ্রাধিকার নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছে আর্থিক সমীক্ষা (Economic Survey 2025-26)।


