33.5 C
Kolkata
Tuesday, July 14, 2026
spot_img

“নাচ-গান…” —২১ জুলাই নিয়ে বিশেষ বার্তা ফিরহাদের, পাল্টা তোপ কুণালের!

কলকাতা: একুশে জুলাই (21 July) উদযাপন নিয়ে দু-পক্ষের দড়ি টানাটানিতে আপাতত কার্যত জিতে গিয়েছে ঋতব্রত শিবির। গান্ধী মূর্তির পাদদেশে শহীদ সমাবেশ করার পুলিশি অনুমতি পেয়ে গিয়েছে ‘আসল তৃণমূল’। সোমবার ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করে ফেলেছেন ঋতব্রত, চন্দ্রিমা, জাভেদ, ফিরহাদরা।

২১ জুলাই (21 July) শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা যখন তুঙ্গে, তখন কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তাঁর দাবি, ২১ জুলাই কোনও উৎসবের দিন নয়, এটি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন। তাই এই কর্মসূচিতে থাকবে না কোনও নাচ-গান বা উৎসবের আয়োজন, শুধুই শহিদদের স্মরণ এবং তর্পণ।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ বলেন, “শহিদ তর্পণ করছি। আমরা যাঁরা সেদিন লড়াইয়ে ছিলাম, যেদিন আমাদের উপরে বিনা বিচারে গুলি চালানো হল, যেদিন আমাদের এতগুলো সঙ্গী মারা গেলেন, সেই দিনটা এবং বাংলায় যত মানুষ শহিদ হয়েছেন, তাঁদের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই শহিদ তর্পণ দিবস।”

তিনি (Firhad Hakim) আরও বলেন, ২১ জুলাই (21 July) পালন তৃণমূলের কাছে নতুন কিছু নয়। “আমরা ব্রিগেডে করেছি, শহিদ মিনারে করেছি, যুব কংগ্রেসে থাকাকালীনও করেছি। আজ এখানে করছি। এতে অসুবিধা কোথায়?” প্রশ্ন তোলেন তিনি। শহিদ দিবসের কর্মসূচির চরিত্র নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নেন ফিরহাদ। তাঁর কথায়, “এটা কোনও উৎসব নয়, কোনও নাচ-গান নয়। এটা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, তাঁদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার অনুষ্ঠান। যাঁরা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরাই এখানে আসবেন।”

তিনি (Firhad Hakim) আরও দাবি করেন, বিরোধী দলে থাকাকালীন যেমন ২১ জুলাই (21 July) পালন করা হয়েছে, তেমনই সরকারে থাকাকালীনও এই কর্মসূচি অব্যাহত ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। “আমরা যখন বিরোধী ছিলাম, তখনও করেছি। যখন সরকারে ছিলাম, তখনও করেছি। আজও করছি,” বলেন ফিরহাদ। অন্যদিকে, এই নিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়া হলেও কালীঘাট তৃণমূলের ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভার অনুমতি না মেলায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, “যদি কাউকে মেয়ো রোড দেওয়া যায়, তাহলে আমাদের ভিক্টোরিয়ার সামনে সমাবেশ করতে দিতে আপত্তি কোথায়? বি-টিমকে সুবিধা দিতে তৃণমূলকে বাধা দেওয়া হচ্ছে।”

শুধু প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই নয়, ‘আসল তৃণমূল’ দাবিদারদেরও তীব্র কটাক্ষ করেছেন কুণাল (Kunal Ghosh)। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরিয়ে, ছবি বাদ দিয়ে যারা ‘আসল তৃণমূল’ সাজছেন, তাঁরা এখনও আলাদা দল গড়ে মানুষের ভোটে জিতে আসছেন না কেন?”

তাঁর আরও দাবি, যাঁরা একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিচিতি পেয়েছিলেন, তাঁরাই এখন তাঁর ছবি সরিয়ে নতুন পরিচয় তৈরির চেষ্টা করছেন। কুণালের (Kunal Ghosh) কথায়, “বিবেক, লজ্জা বলে কিছু নেই? মমতাদি মুখ্যমন্ত্রী থাকলে এঁদের কী ভূমিকা ছিল, তা মানুষ জানেন। বাকিটা সময়, মানুষ আর দলের কর্মীদের বিবেচ্য।”

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন