স্নেহা পাল, হুগলি: সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সভাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়াল নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দির (Nalikul Deshbandhu Bani Mandir)।
বুধবার সিঙ্গুরে সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সভায় উপস্থিত ছিল নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দির স্কুলের বেশ কিছু পড়ুয়া। স্কুল ছুটির সময় সন্তানদের নিতে এসে অভিভাবকরা দেখেন, স্কুলে পড়ুয়ারা নেই। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষকরা পড়ুয়াদের সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় নিয়ে গিয়েছেন।
অভিভাবকদের দাবি, এই কর্মসূচি সম্পর্কে তাঁদের কাউকেই আগে জানানো হয়নি। সম্মতি তো দূরের কথা, মৌখিকভাবেও কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি প্রধান শিক্ষককে বহুবার ফোন করলেও তিনি তাদের ফোন তোলেননি বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
কিছুক্ষণ পর পড়ুয়াদের নিয়ে শিক্ষকরা স্কুলে ফেরেন। তখন পড়ুয়াদের হাতে বিরিয়ানির প্যাকেট দেখা যায়। সেই দৃশ্য ঘিরেই অভিভাবকদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। স্কুল চত্বরে শুরু হয় বিক্ষোভ।
অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষাদানের পরিবর্তে রাজনৈতিক সভায় ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া শিক্ষকদের দায়িত্বের অংশ নয়, তা-ও আবার অভিভাবকদের সম্মতি ছাড়া।
এক অভিভাবক সুদীপ হালদার বলেন, “আগেও এই স্কুলে নানা মতাদর্শের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি। রাজনীতির জন্য স্কুল ও ছাত্রদের ব্যবহার মেনে নেওয়া যায় না।” আর এক অভিভাবক জানান, “আজ সভা, কাল আবার কোথায় নিয়ে যাবে, সেই নিশ্চয়তা কোথায়? এই ঘটনার পর সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে।”
বিতর্ক সামনে আসার পর স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, শেষ মুহূর্তে প্রশাসনের শীর্ষস্তর থেকে নির্দেশ এসেছিল। সেই নির্দেশ মেনেই পড়ুয়াদের সভায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর দাবি, এত অল্প সময়ে অভিভাবকদের জানানোর সুযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে এখনও পর্যন্ত নালিকুল দেশবন্ধু বাণীমন্দিরের (Nalikul Deshbandhu Bani Mandir) পরিচালন সমিতি বা শাসকদলের কোনও প্রতিনিধির আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই নীরবতাই বিতর্ক আরও জোরালো করছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত।


