মুম্বই: ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা এনসিপি প্রমুখ অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar)। বুধবার সকাল ৮ টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বারামতির কাছে ভেঙে পড়ে অজিত পাওয়ারের চার্টার্ড বিমান। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে আগুন। ওই বিমানে উপমুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন আরও ৫ জন যাত্রী।
ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন জানিয়েছে, মুম্বই থেকে এদিন সকালে বারামতির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর জরুরী অবতরণের সময় ভেঙে পড়ে বিমানটি। মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। এই দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে—অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) ছাড়াও দুই পাইলট ও দু’জন যাত্রী, যাঁদের মধ্যে একজন বিমানসেবিকা এবং অন্যজন অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন, বলে জানা গিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে পাওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া চার্টার্ড বিমানটি থেকে গলগল করে বেরচ্ছে কালো ধোঁয়া। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ, দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
জনসভায় যাচ্ছিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার
জানা গিয়েছে, জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমতির নির্বাচনী আবহে একটি জনসভায় যোগ দিতে মুম্বই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার।
মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপমুখ্যমন্ত্রী
এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা শরদ পাওয়ারের ভাইপো ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ার (Ajit Pawar) অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হওয়ার পাশাপাশি মহারাষ্ট্রের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও দায়িয়্ব পালন করেছেন। পৃথ্বীরাজ চবন, দেবেন্দ্র ফড়ণবীস, উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে—একাধিক মুখ্যমন্ত্রীর আমলে তিনি উপমুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৯১ সালে বারামতি লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবার সাংসদ নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। পরে তিনি সেই আসন ছেড়ে দেন তাঁর কাকা শরদ পাওয়ারের জন্য। বিধানসভা রাজনীতিতেও তাঁর দাপট ছিল সুদৃঢ়। বারামতি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি মোট সাতবার নির্বাচিত হন—প্রথমবার ১৯৯১ সালের উপনির্বাচনে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫, ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৯ ও ২০১৪ সালে।


