কলকাতা: তারাতলার গোডাউন প্ল্যানে ১৭ জানুয়ারি অনুমোদন দিয়েছিলেন তৎকালীন কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই দাবী করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ হুঁশিয়ারি দেন “কাউকে ছাড়া হবে না”! একসময় মমতার ছায়াসঙ্গী ফিরহাদ হাকিম বর্তমানে বিরোধী শিবিরে। তারাতলায় গোডাউন ধসে (Taratala Tragedy) ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসছে। এই নিয়ে ফিরহাদ সহ শুভেন্দুকেও একহাত নিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)।
মহুয়ার বক্তব্য, এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং উদ্ধারকাজে সেনা ও এনডিআরএফ নিরলসভাবে কাজ করছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি সরকার মনে করে নির্মাণ পরিকল্পনায় গলদ ছিল বা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে, তাহলে সেই অনুমোদন যারা দিয়েছিল তাদের বিরুদ্ধেই সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অসঙ্গতিও তুলে ধরেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ। তাঁর দাবি, একদিকে সরকার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) স্বাক্ষর ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, অন্যদিকে আবার তাঁকেই দলে টানা হচ্ছে।
X Link: https://x.com/ANI/status/2070132226529112340
মহুয়ার (Mahua Moitra) কটাক্ষ, “একদিকে বলছেন উনিই দায়ী, অন্যদিকে আবার তাঁকেই ৬৫ জন বিধায়কের নেতা করছেন।” তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ঠিকাদারকে দায়ী করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যদি নির্মাণ পরিকল্পনা বা অনুমোদনে কোনও ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলে সেই ফাইল পাশ করা ব্যক্তি বা সংস্থার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, “ঠিকাদারকে ধরলেই হবে না, যদি প্ল্যানে গলদ থাকে তাহলে যিনি সেই প্ল্যান অনুমোদন করেছেন, তাঁকেও জবাবদিহি করতে হবে।”
মহুয়া (Mahua Moitra) আরও বলেন, “সিংহকে ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী ইঁদুর-বিড়াল ধরছেন! যার সই আছে, তাঁকে ধরুন!” বলা বাহুল্য, তারাতলা বিপর্যয় (Taratala Tragedy) ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। একদিকে সরকার অতীতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে দায়ী করছে, অন্যদিকে বিরোধীরা বর্তমান সরকারের ভূমিকা ও পদক্ষেপ নিয়েই প্রশ্ন তুলছে। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণে তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যবাসী।


