Aaj India Desk, কলকাতা: রাজ্য বিধানসভার (Legislative Assembly) বর্তমান পরিস্থিতি বেশ ব্যতিক্রমী। বিরোধী শিবিরের মধ্যেই এখন নানা বিভাজন ও মতবিরোধ স্পষ্ট। ফলে শাসকদল যখন একটি বিরোধী গোষ্ঠীকে আক্রমণ করছে, তখন অন্য বিরোধী শিবিরের অনেকেই তা সমর্থন করছেন। বাজেট অধিবেশনের (West Bengal Budget 2026) মধ্যেই এমন এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিধানসভার অন্দরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
সকালে তারাতলা দুর্ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বক্তব্য শেষ করে তিনি নিজের কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় তৃণমূলের কালীঘাট ঘনিষ্ঠ শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)-ও কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন। করিডরে দু’জনের দেখা হলে মুখ্যমন্ত্রী থেমে যান এবং কয়েক মিনিট ধরে কুণালের সঙ্গে কথা বলেন। এই সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতাই পরে বিধানসভার অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে ওঠে।
অনেক বিধায়কের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কী বিষয়ে কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে? কারণ, এই সাক্ষাতের আগে অধিবেশন কক্ষে এমন একটি দৃশ্য দেখা গিয়েছিল, যা অনেকের নজর কেড়েছিল। তারাতলা বিপর্যয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা করেন। তিনি ফিরহাদের স্বাক্ষর করা একটি বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের নথি দেখিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করে টেবিল চাপড়াতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনাই নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। কারণ, ফিরহাদ হাকিম বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এর আগে অধিবেশন চলাকালীন কুণাল ঘোষ মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে মন্তব্য করেছিলেন, তৃণমূলে যারা এখনও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে।
ফলে ফিরহাদ হাকিমকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের সময়ে কুণালের প্রকাশ্য সমর্থন এবং তার পরপরই দু’জনের আলাদা করে কথাবার্তা-এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এখন বিধানসভার করিডরে জোর চর্চা চলছে। তবে তাঁদের আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য সামনে আসেনি।


