Aaj India Desk, পূর্ব মেদিনীপুর: দীঘার (Digha) শংকরপুরের কাছে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ন্যায়কালী মন্দিরকে ঘিরে সামনে এসেছে আর্থিক অনিয়মের (Financial Fraud) অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের জন্য সরকারি তহবিল থেকে যে বিপুল পরিমাণ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল, তার পুরো হিসেব মিলছে না। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে ২ তৃণমূল নেতাকে (TMC Leader)। তারা হলেন স্থানীয় প্রদিমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুজিত কর এবং মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুবল সাউ।
বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং তাঁদের লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে মন্দিরের অর্থব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে বেশ কিছু অসঙ্গতির প্রমাণ মিলেছে। সেই কারণেই উপপ্রধান ও মন্দির কমিটির কোষাধ্যক্ষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আর্থিক অনিয়মে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, সরকারি অর্থ কীভাবে খরচ করা হয়েছে এবং কোথায় গরমিল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে ন্যায়কালী মন্দিরের সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে বিভিন্ন কাজও করা হয়। তবে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি টাকার হিসেব পাওয়া গেলেও বাকি প্রায় ৪ কোটি টাকার খোঁজ মিলছে না বলে অভিযোগ। এই গরমিল নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
গত কয়েকদিন ধরে মন্দির কমিটির কাছে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসেব চাওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একটি সালিশি বৈঠকও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় তদন্ত এবং পরে গ্রেফতার করা হয় দুই অভিযুক্তকে।


