স্নেহা পাল, কলকাতা: কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (R.G.Kar Medical college and Hospital) ডাক্তারি পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-এর কাজ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল নির্যাতিতার পরিবার। এই পরিস্থিতিতেই আর জি কর কাণ্ডের (R.G.Kar Case) তদন্তের দায়িত্বে থাকা CBI অফিসার ভি চন্দ্রশেখরকে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারে সম্মানিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে পুরস্কার নেবেন ভি চন্দ্রশেখর। তিনি ২০০০ ব্যাচের গুজরাত ক্যাডারের আইপিএস অফিসার এবং বর্তমানে CBI-এর যুগ্ম ডিরেক্টর পদে কর্মরত। আর জি কর মামলার (R.G.Kar Case) তদন্তকারী দলের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
CBI সূত্রে জানা গিয়েছে, চার্জশিট জমা পড়ার কয়েক মাসের মধ্যেই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রাইকে দোষী সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়াকে ‘দ্রুত তদন্তের উদাহরণ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই কাজের স্বীকৃতিতেই পুরস্কার তালিকায় নাম রয়েছে ভি চন্দ্রশেখরের।
ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন পরিবারের
উল্লেখযোগ্যভাবে নির্যাতিতার পরিবার একাধিকবার অভিযোগ করেছে, আর জি কর কাণ্ডের (R.G.Kar Case) তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাঁদের নিয়মিত জানানো হয়নি। ফোন করলেও উত্তর মেলেনি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। শুধু সঞ্জয় রাইকেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
এই আবহে তদন্তকারী সংস্থার শীর্ষ আধিকারিককে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তদন্তের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও এই রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বার্তা পাঠাতে চাইছে কেন্দ্র।
ভি চন্দ্রশেখরের পাশাপাশি আরও ৩০ জন CBI অফিসার রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সুপার অমিত শ্রীবাস্তব, ASP মুকেশ শর্মা, SI প্রমোদকুমার যতি, ASI চমনলাল, হেড কনস্টেবল রামু গোল্লা এবং ২০০৭ ব্যাচের IPS অফিসার সি বেঙ্কট সুব্বা রেড্ডি। এছাড়াও তালিকায় আছেন ডেপুটি লিগাল অ্যাডভাইসর মনমোহন শর্মা, ASP বৈদ্যনাথ সমল, রুবি চৌধুরী, মণীশ কুমার উপাধ্যায়, অনমোল সাচান, নিশু কুশওয়াহা, অরিজিৎ সিনহা-সহ আরও অনেকে।
চার্জশিটেই সীমাবদ্ধ ন্যায়বিচার
আইনের দৃষ্টিতে আর জি কর মামলার (R.G.Kar Case) তদন্ত সমাপ্ত হলেও সমাজের প্রশ্ন এখনও মিটে যায়নি। যে অপরাধ একটি পরিবারকে আজীবনের ক্ষত দিয়েছে, সেই ঘটনার বিচার নিয়ে সন্দেহ থাকতেই তদন্তকারী অফিসারদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি তৈরি করেছে। ন্যায়বিচার কেবল চার্জশিট বা রায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তার গ্রহণযোগ্যতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।আইন যখন ‘সমাপ্তি’ ঘোষণা করে, তখনও যদি মানুষের মনে প্রশ্ন রয়ে যায়, তবে সেই বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে আত্মসমালোচনার দাবি তোলে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের এই পুরস্কার প্রদানের সিদ্বান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে।


