31 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

তিন কলেজ মিলিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়? প্রস্তাবে সম্মতি মুখ্যমন্ত্রীর

স্নেহা পাল, কলকাতা: আজ আশুতোষ কলেজ (Ashutosh College), শ্যামাপ্রসাদ কলেজ (Shyama prasad college) ও যোগমায়া দেবী কলেজকে (Jogamaya devi college) একত্র করে একটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

সরস্বতী পুজো উপলক্ষে যোগমায়া দেবী কলেজে (Jogamaya devi college) এসে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সব কিছু অনুকূল থাকলে বিধানসভা ভোটের পর বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তিন কলেজেরই অধ্যক্ষদের এই সংক্রান্ত একটি লিখিত প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি। কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাধ্যমে সেই প্রস্তাব পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আশুতোষ কলেজের (Ashutosh College) অধ্যক্ষ ড. মানস কবি (Dr. Manas Kabi) বলেন, মুখ্যমন্ত্রী এই কলেজ গোষ্ঠীরই প্রাক্তনী। দীর্ঘদিন ধরেই তিনটি কলেজকে নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের দাবি জানানো হচ্ছিল। বিধানসভা ভোটের কারণে এখনই আইনি প্রক্রিয়া সম্ভব নয় জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ভোটের পর বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আপাতত একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ ও অন্যান্য বিষয় রাজ্য সরকারই চূড়ান্ত করবে।

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কলেজের (shyama prasad college) অধ্যক্ষ ড. অপূর্ব চক্রবর্তী (Dr. Apurba Chakraborty) বলেন, আশুতোষ কলেজ (Ashutosh College), যোগমায়া দেবী কলেজ (Jogamaya devi college) ও শ্যামাপ্রসাদ কলেজ (shyama prasad college) একটি পরিবারের মতো। তিনটি কলেজ একসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই বার্তা পাওয়া শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আশুতোষ কলেজ (Ashutosh College), শ্যামাপ্রসাদ কলেজ (shyama prasad college) ও যোগমায়া দেবী কলেজকে (Jogamaya devi college) একত্র করে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাবে মুখ্যমন্ত্রীর নীতিগত সম্মতি রাজ্যের উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে। শতাব্দী প্রাচীন এই তিন কলেজ দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Calcutta University) অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত হলে প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন, পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, বিধানসভায় অনুমোদন, আর্থিক বরাদ্দ ও প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হবে। বিধানসভা ভোটের পর রাজ্য সরকার কীভাবে এবং কত দ্রুত এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যায়, তার উপরই নির্ভর করবে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ।

তবে রাজনৈতিক মহলে এই উদ্যোগকে ঘিরে ভিন্ন ব্যাখ্যাও শোনা যাচ্ছে। শিক্ষানীতির বাইরেও রাজনৈতিক সমীকরণ এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, তিনটি কলেজের রাজ্যের শাসকদলের প্রতি অনুকূল মনোভাব লক্ষ করা যায়। সেই কারণেই অন্য বড় কলেজ বা কলেজ গোষ্ঠী নয়, বিশেষত এই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাবে দ্রুত নীতিগত সম্মতি মিলেছে বলে তাঁদের মত।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন