স্নেহা পাল, আলমপুর: ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে আবার রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হলেন বাংলার এক পরিযায়ী শ্রমিক (Migrant Worker)। অন্ধ্রপ্রদেশে (Andhra Pradesh) কর্মরত উস্তি থানার অন্তর্গত এক যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) নাম মঞ্জুর আলম লস্কর (৩২)। তিনি দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি থানার (Usthi Police Station) রঙ্গিলাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) কোমারুল এলাকায় কাজ করতেন। মাঝেমধ্যেই তিনি ছুটিতে বাড়িতে আসতেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পরিবারের দাবি, মাসখানেক আগে বাড়িতে এসেছিলেন মঞ্জুর। প্রায় ২০ দিন আগে ফের কর্মস্থলে ফিরে যান। এরপর মঙ্গলবার বাড়িতে হঠাৎ একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোন করে ২৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মঞ্জুরকে খুন করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। মঞ্জুরের স্ত্রী ওই নম্বরে ৬ হাজার টাকা পাঠান বলেও দাবি পরিবারের। পরেরদিন বুধবার একই নম্বর থেকে ফোন করে জানানো হয়, মঞ্জুরের মৃত্যু হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, মুক্তিপণ দাবি করে ফোন করার পরই মঞ্জুর আলম লস্করকে খুন করা হয়। মৃতকে বাংলাদেশি সন্দেহে পিটিয়ে মারার অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।মৃতের দাদা গিয়াসউদ্দিন লস্কর স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তিনি অভিযোগ করেন যে বাংলাদেশি সন্দেহে দুষ্কৃতীরা তাঁর ভাইকে পিটিয়ে খুন করেছে। তবে আসলে কীভাবে আলম লস্করের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Worker) এই ধরনের ধারাবাহিক মৃত্যু শ্রমিকদের পরিবারে গভীর ভীতি এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করছে। অনেকেই চাকরি বা জীবনধারার জন্য বাধ্য হলেও দীর্ঘ সময় ধরে ভিনরাজ্যে কাজ করেন, সেই সমস্ত শ্রমিকদের পরিবার ঘরে থাকাকালীন বারবার মৃত্যুর খবর পেয়ে আতঙ্কিত হচ্ছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ইতিমধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতদেহ বাংলায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের তরফে তদন্তের দাবি উঠছে।


