স্নেহা পাল, ইম্ফল: মণিপুরের (Manipur) কুকি-জো (Kuki) অধ্যুষিত চুরাচাঁদপুর (Churachandpur) জেলায় বুধবার সন্ধ্যায় এক মেইতেই (Meitei) সম্প্রদায়ের ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি একটি ভিডিওতে ধরা পড়ে এবং পরে তা সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকারে বাইরে মাটিতে বসে থাকা ওই ব্যক্তি হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইছেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর দুবার গুলি চালানো হয়।
অডিওহীন ভিডিও ঘিরে রহস্য
ঘটনার ভিডিওতে “No peace no popular government” লেখা ছিল, যা রাজ্যে জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সরকার পুনরুদ্ধারের দাবি বলে মনে করা হচ্ছে। ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিয়োতে কোনো শব্দ বা Audio ছিল না ফলে ভিডিয়োটি ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। তদন্তকারীদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা বা ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হতে পারে। তবে সরাসরি কোনও হুমকি বা দাবি এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি।
মেইতেই কুকি-জোর বৈবাহিক সম্পর্ক
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি Mayanglambam মেইতেই সম্প্রদায়ের হলেও তিনি মণিপুরে (Manipur) স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন না। কাজের সূত্রে তিনি নেপালে (Nepal) বসবাস করতেন। তাঁর স্ত্রী কুকি-জো সম্প্রদায়ের। গত এক মাস ধরে তিনি স্ত্রীর সঙ্গে চুরাচাঁদপুর (Churachandpur) জেলার ওই গ্রামেই ছিলেন এবং বিষয়টি গ্রামবাসী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আগে থেকেই জানতেন।
খুনিদের খোঁজে তদন্ত, বাড়ানো হলো নজরদারি
চুরাচাঁদপুরের (Churachandpur) পুলিশ সুপার গৌরব দোগরা (Gaurav Dogra) জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং নিহতের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। কোনও গোষ্ঠী বা সংগঠনও দায় স্বীকার করেনি। এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং ঘটনার ভিডিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড এবং তার ভয়াবহ ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে চুরাচাঁদপুর (Churachandpur) ও আশপাশের এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা জাতিগত সংঘর্ষের আবহে এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের উপর চাপ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


