স্নেহা পাল, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে (Jhargram) লোধা ও শবর সম্প্রদায়ের দরিদ্র মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ‘জীবিকা ও উত্তরণ’ (Jibika Uttaran Scheme) প্রকল্পে টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই প্রকল্পের প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে মঙ্গলবার পাটাশিমূল এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান শবর মহিলারা।
ঝাড়গ্রাম (Jhargram) ব্লকের পাটাশিমূল (Patashimul) গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় এই প্রকল্পে মোট ২৪৬ জন মহিলা সাহায্যপ্রাপকের তালিকায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও বাকি ২৩০ জনের অ্যাকাউন্টে গত বছর আগস্ট মাসে প্রত্যেকের ৫,৪৫৪ টাকা করে জমা পড়ার কথা ছিল যদিও সেই টাকা তাঁরা এখনও পাননি। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি ঘুরে সার্ভে করে তাঁদের প্রকল্পের টাকা ও ছাগল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, অথচ সেসব কিছুই পাননি তাঁরা।
উপভোক্তা ও সংঘের বোর্ড সদস্যদের অভিযোগ, পাটাশিমূল নবজাগরণ বহুমুখী প্রাথমিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের (Patashimul Navajagaran Bahumukhi Primary Cooperative Society Limited) সম্পাদিকা মধুমিতা পড়িহারী (Madhumita Parihari) ও কোষাধ্যক্ষা নির্মলা মাহাতো (Nirmala Mahato) কোনও রেজোলিউশন পাশ না করেই সংঘের অ্যাকাউন্ট থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তির টাকা-সহ মোট প্রায় ৬২ লক্ষ টাকা তুলে নেন। পরে চাপের মুখে অ্যাকাউন্টে ১০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার পাটাশিমূল (Patashimul) এলাকার লোধা ও শবর মহিলারা শহরের অরণ্য সুন্দরী মহাসংঘের অফিসে এসে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাঁচ মাস ধরে প্রাপ্য টাকা না পাওয়ায় তাঁদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সমবায় সমিতি লিমিটেডের সম্পাদিকা সেই টাকায় নিজের পাঁচতলা বাড়ি তুলছেন। এর আগে ব্লক অফিসে লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযুক্ত সম্পাদিকা মধুমিতা পড়িহারী (Madhumita Parihari) এর প্রত্যুত্তরে বলেন, সংঘের অন্য খাতে ওই টাকা ব্যবহার করা হয়েছিল এবং শীঘ্রই সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট খাতের টাকা অন্য খাতে ব্যবহার করার কারণ তিনি জানাতে পারেননি। ঝাড়গ্রামের BDO জয় আহমদ জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চলছে এবং বোর্ড সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে দ্রুত সমাধান সূত্র বের করা হবে।


