স্নেহা পাল, হায়দ্রাবাদ: মঙ্গলবার তেলেঙ্গানায় (Telengana) ফের পথকুকুর হত্যার অভিযোগ উঠে আসে। হায়দ্রাবাদ (Hyderabad) থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে যাচারাম এলাকায় বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ১০০টি পথকুকুরকে (Stray Dogs) মেরে ফেলার অভিযোগ করা হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় গ্রামপ্রধান সহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তেলেঙ্গানা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, স্ট্রে অ্যানিমাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার (SAFI) অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং পশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কুকুরদের (Stray Dogs) মৃতদেহ উদ্ধার করা যায়নি কিন্তু তদন্তকারীদের অনুমান প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি কুকুরকে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। দেহ উদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান ও খননের প্রস্তুতি চলছে। পশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতা রুখতে এলাকায় সচেতনতা অভিযানও শুরু করা হয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগকারীদের দাবি, কুকুরদের খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিল এবং কয়েকটি কুকুরকে বিষ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। স্ট্রে অ্যানিমাল ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া (SAFI)-এর তরফে জানানো হয়, পথকুকুর (Stray Dogs) সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল নির্বীজকরণ ও টিকাকরণ কর্মসূচি কার্যকর করা, কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় গ্রামবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল। এক গ্রামবাসীর কথায়, “গত দু’বছর ধরে আমরা জেলা প্রশাসনের কাছে বারবার আবেদন করেছি। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।”
এর আগেও তেলেঙ্গানার (Telengana) একাধিক জেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। হনামকোন্ডা জেলার দু’টি গ্রাম থেকে ১২০টি পথকুকুরের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল, পাশাপাশি কামারেড্ডি জেলা থেকেও প্রায় ১০০টি কুকুরের দেহ পাওয়া যায়। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলি রাজ্যজুড়ে পশু সুরক্ষা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
একদিকে মানুষের নিরাপত্তা ও অন্যদিকে নীরব প্রাণীদের জীবন, এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে প্রশাসন। কুকুর মানুষের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধু। অথচ আজ সেই বন্ধুকেই সমাজের নানা প্রান্তে নির্বিকারভাবে মেরে ফেলা হচ্ছে। পথকুকুর (Stray Dogs) সমস্যা সমাধানের নামে বিষ প্রয়োগ করে নীরব প্রাণীদের হত্যা শুধু আইনবিরুদ্ধ নয়, মানবিক মূল্যবোধেরও নির্মম অবক্ষয়কে তুলে ধরছে।
প্রশাসনিক ব্যর্থতা, পরিকল্পনার অভাব এবং দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার ফলেই বারবার প্রাণ হারাচ্ছে নির্ভরহীন এই প্রাণীরা। আইন থাকা সত্ত্বেও যদি তা কার্যকর না হয়, তবে পথকুকুররা আরও বেশি করে নির্যাতনের শিকার হবে। এই অবস্থায় প্রশাসন থেকে আদৌ কোনো সুরাহা করা হবে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।


