স্নেহা পাল, গান্ধীনগর: সোমবার গুজরাতের সুরাট জেলার মান্ডভি তালুকার তাদকেশ্বর গ্রামে পরীক্ষামূলক জল ভরার সময় ভেঙে পড়ল ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ওভারহেড জলাধার (Water Tank)। প্রায় ১৫ মিটার উঁচু এই জলাধার ভেঙ্গে পড়ায় আহত হয়েছেন তিনজন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঠামোর শক্তি যাচাইয়ের জন্য প্রায় ৯ লক্ষ লিটার জল ভরা হয়েছিল। জল ভরার কিছুক্ষণের মধ্যেই জলাধারটি (Water Tank) ভেঙে পড়ে। ঘটনায় দুই মহিলা শ্রমিক ও এক নাবালিকা আহত হন। তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২১.০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে জেলার ৩৫টি গ্রামে পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের আগেই ধস নামায় প্রশ্ন উঠছে প্রকল্পের গুণমান ও সরকারি দুর্নীতি নিয়ে।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সুরাট রোডস অ্যান্ড বিল্ডিংস দপ্তরের নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার রাজনিকান্ত চৌধুরী এবং ডেপুটি নির্বাহী ইঞ্জিনিয়ার জয় চৌধুরীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। নির্মাণকারী সংস্থা জয়ন্তী সুপার কনস্ট্রাকশন প্রাইভেট লিমিটেড ও বাবুভাই প্যাটেলকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে এবং সব ধরনের অর্থপ্রদান স্থগিত রাখা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গুজরাত ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (GERI) এবং সর্দার বল্লভভাই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (SVNIT), সুরাটের বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছে নির্মাণসামগ্রীর নমুনা সংগ্রহ করেছে। জলাধারের (Water Tank) নকশা ও নির্মাণসামগ্রীর মানও পরীক্ষা করা হচ্ছে। মান্ডভি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
২১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিষেবা প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ায় জনতার করের টাকায় গড়ে ওঠা সরকারি প্রকল্পগুলির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যে প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামবাসীর পানীয় জলের সংকট মেটানোর কথা ছিল, তা প্রথম পরীক্ষাতেই মুখ থুবড়ে পড়ায় দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে। তদন্তে যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই হবে জনস্বার্থ রক্ষার একমাত্র পথ। তা না হলে উন্নয়নের নামে সরকারি কোষাগার থেকে টাকা খরচ হলেও ভরসার পরিকাঠামো যে আদৌ তৈরি হচ্ছে না, সেই সত্যিই বারবার উঠে আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


