Aaj India Desk, কলকাতা : তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার কেন্দ্র নিয়ে জল্পনা চলছিল। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এই নিয়ে অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে এসেছে। একের পর এক নেতা ও মন্ত্রীর ক্ষোভের পর এবার প্রকাশ্যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আগের বিতর্ককেই উসকে দিলেন দলের মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেবও (Biswajit Deb)। তাঁর দাবি, দুর্নীতি এবং সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তৃণমূলে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে সরব
বিশ্বজিৎ দেবের (Biswajit Deb) অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে দলের বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে, তা নেতৃত্বের অজানা ছিল না। তাঁর বক্তব্য, “এত প্রমাণ সামনে আসার পর আর সন্দেহের জায়গা নেই।” তিনি দাবি করেন, দলের ভরাডুবির পিছনে দুর্নীতিই অন্যতম প্রধান কারণ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির দায় এড়াতে পারেন না দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের ভিতরে দুই শিবির
বিশ্বজিৎ দেবের (Biswajit Deb) কথায়, “একটি গোষ্ঠী ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে, অন্যটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশেপাশে। সাধারণ কর্মী, বিধায়ক বা সাংসদদেরও সেই গোষ্ঠীর বাইরে যাওয়ার সুযোগ ছিল না।”
তাঁর দাবি, এই বিভাজনের কারণে সংগঠনের স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। দলের বহু পুরনো নেতা ও কর্মী নিজেদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিশ্বজিৎ দেবের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের মধ্যে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল যেখানে নেতৃত্বের নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর বাইরে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠত। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হতে শুরু করে। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দলের ভিতরে যদি একাধিক ক্ষমতার কেন্দ্র তৈরি হয়, তাহলে মাঠস্তরের কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সংগঠনের প্রতি আস্থাও কমতে থাকে।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্বজিৎ দেব। তাঁর দাবি, আগামী দিনে দল ভেঙে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নেতা-কর্মীরা ছড়িয়ে পড়বেন।তাঁর কথায়, “কেউ কংগ্রেসে যাবে, কেউ বিজেপিতে, কেউ সিপিএমে। আগে আমরা বলতাম কংগ্রেস ও সিপিএম সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে। এবার তৃণমূলও সেই অবস্থায় পৌঁছবে।” তিনি মনে করছেন, খুব শীঘ্রই এই ভাঙনের প্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।


