স্নেহা পাল, কলকাতা: আজ কলকাতায় স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আশা কর্মীদের (ASHA Workers) একাংশ। কিন্তু রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কলকাতায় পৌঁছতে গিয়ে আশা কর্মীরা রেল ও সড়কপথে একাধিক জায়গায় পুলিশ ও GRPর হাতে বাধা পেয়েছেন। শিয়ালদা, নিউ জলপাইগুড়ি-সহ একাধিক স্টেশনে তাদের আটকে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
নিজেদের দাবি নিয়ে টানা ৩০ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন পশ্চিমবঙ্গের আশা কর্মীরা (ASHA Workers)। ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা বেতন, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং বকেয়া ভাতা মেটানোর দাবিতেই রাজ্যজুড়ে তাদের আন্দোলন চলছে। সেই আন্দোলনেরই অঙ্গ হিসেবে আজ স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের কর্মসূচি ছিল।
কিন্তু অভিযানের আগেই বিভিন্ন জায়গায় আশা কর্মীদের আটকানোর অভিযোগ ওঠে। বুধবার সকালে শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে আশা কর্মীরা আটকে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, বৈঠকের জন্য আজই তাঁদের ডাকা হয়েছিল। কিন্তু GRP-র তরফে ‘উর্ধ্বতন নির্দেশ’-এর কথা বলে তাঁদের এগোতে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে গতকাল পদাতিক এক্সপ্রেসের ভিতরে ঢুকে আশা কর্মীদের (ASHA Workers) ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মালদা টাউন স্টেশনেও বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও গৌড় এক্সপ্রেসে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। যদিও GRP সূত্রে দাবি, জেনারেল কামরায় ভিড় থাকার জন্যেই তাঁদের ওঠানো সম্ভব হয়নি।
পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ, অন্ডাল ও বারাবনি এলাকায় বাসে করে কলকাতা আসার পথে আশাকর্মীদের আটক করা হয়েছে। বাঁকুড়া, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, বেলদা ও মেদিনীপুর স্টেশনেও একই ছবি দেখা যায়। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বচসায়ও জড়ান আন্দোলনকারীরা। খাতড়া, ময়না এবং রাঙামাটি এলাকায় রাস্তা ও রেল অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযানে অশান্তির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবেই ভিতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
আজ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরুপ নিগমের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা ছিল আশা কর্মীদের, তবে আটকানোর কারণে সেই বৈঠক অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজ্যে প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গতকাল রাত থেকেই পরিকল্পিতভাবে ধরপাকড় শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।


