স্নেহা পাল, সিমলা : ভারত ঐতিহ্যগতভাবে কৃষিনির্ভর দেশ হলেও বাস্তবে ক্রমশই কৃষকদের (Farmers )দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটেই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA), বিশেষ করে ভারত-নিউজিল্যান্ড ও সম্ভাব্য ভারত-মার্কিন চুক্তির বিরোধিতায় সোমবার সিমলার
(Shimla) রাজ্য সচিবালয়ের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভে নামেন শত শত কৃষক। তাঁদের অভিযোগ, আপেলসহ শীতপ্রধান ফলের উপর আমদানি শুল্ক কমানো হলে দেশীয় বাজারে সস্তা বিদেশি ফল ঢুকে পড়বে, যা হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডের প্রায় ১৫ লক্ষ কৃষক পরিবারের জীবিকা বিপন্ন করবে।
হাইকোর্টের অজুহাতে কৃষকদের উচ্ছেদ, সংকটে হিমাচলের আপেল চাষিরা
হিমাচল কিষাণ সভা, হিমাচল সেব উৎপাদক সংঘ এবং আপেল চাষিদের বিভিন্ন সংগঠনের যৌথ ডাকে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আপেল চাষিদের যৌথ মঞ্চের কনভেনর সঞ্জয় চৌহান (Sanjay Chauhan) বলেন, “হাই কোর্টের নির্দেশের অজুহাতে দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উচ্ছেদ এবং আপেল বাগান কাটার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।”কৃষকদের দাবি অনুযায়ী, আপেল চাষ হিমাচল প্রদেশের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GSDP) প্রায় ১৩.৫ শতাংশ অবদান রাখে। অথচ কেন্দ্র ও রাজ্যের নীতি এবং প্রশাসনিক অবহেলার কারণে এই খাত গভীর সংকটে পড়ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
অর্থনীতির পক্ষে সহায়ক, স্বস্তি ভোক্তাদের
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলি (FTA) ভারতের সামগ্রিক রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক বাজারে প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও পরিষেবা খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নিশ্চিত করবে। সরকারের যুক্তি, FTA-র আওতায় শুল্ক হ্রাস হলেও দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা ও বাজার হস্তক্ষেপ নীতি বজায় রাখা হবে। পাশাপাশি, সরকারি মহলের দাবি, এই ধরনের চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
অন্যদিকে বিদেশি ফল আমদানির ফলে বাজারে সারা বছর ফলের জোগান বজায় থাকে এবং দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে। উন্নত প্যাকেজিং ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে আমদানিকৃত আপেলের গুণগত মান অনেক সময় বেশি হওয়ায় ক্রেতারা সেই দিকেই ঝুঁকছেন।
তবে ভোক্তাদের মধ্যেও একটি অংশ স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করছেন।সরকারের নীতিনির্ধারণে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বেগ ও দাবিগুলি গুরুত্ব পায় কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।


