Aaj India Desk,নয়াদিল্লি: অলিম্পিক ব্রোঞ্জজয়ী টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes)-এর রাজনৈতিক পদক্ষেপে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। 2021 তৃণমূল (TMC)-এ যোগ দেওয়া পেজ এবার আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-তে রাজ্যে নির্বাচন শুরুর ঠিক আগে, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, পেজের এই যোগদান কেবল একটি রাজনৈতিক সংযোজন নয়, বরং বাংলার শহুরে ও তরুণ ভোটারদের মানসিকতার প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপিকে ‘শুধু হিন্দু স্বার্থের দল’ হিসেবে যে সমালোচনা করা হয়, পেজের মতো একজন আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদের অন্তর্ভুক্তি সেই ধারণার বিরুদ্ধে একপ্রকার বার্তা বলেই মনে করছে দল।
৫২ বছর বয়সী পেজ সম্প্রতি কলকাতায় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পর থেকেই তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়, যা অবশেষে বাস্তব রূপ নিল দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে তাঁর আনুষ্ঠানিক যোগদানের মাধ্যমে।
যোগদানের পর পেজ বলেন, তিনি প্রায় চার দশক ধরে দেশের হয়ে খেলেছেন এবং এখন রাজনীতির মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই নতুন দায়িত্ব তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, গোয়ান বংশোদ্ভূত খ্রিস্টান হওয়া সত্ত্বেও কলকাতার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা পেজ দলের কাছে একটি বড় সম্পদ। তাঁর মাধ্যমে অ-হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি শহরের শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের কাছেও পৌঁছনো সহজ হবে বলে আশা করছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar) বলেন, ‘তিনি বাংলার সন্তান এবং তাঁর উপস্থিতি ২০২৬ সালের নির্বাচনে দলের প্রচারে নতুন গতি আনবে’।
অন্যদিকে, পেসের সঙ্গে কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)-র দীর্ঘদিনের সম্পর্কও এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ক্রীড়ামন্ত্রী থাকাকালীন রিজিজুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে পেজ বলেন, এই উদ্যোগ ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখিয়েছে এবং যুবসমাজের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া অবশ্য মিশ্র। দলের একাংশ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছে, জানিয়েছে নির্বাচনের সময় আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। তবে অন্য এক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন, সংসদে আসন্ন বৈদেশিক অনুদান সংশোধনী বিল নিয়ে পেজের অবস্থান কী হবে, সেটিও নজরে রাখা হবে। এই বিষয়ে সৌগত রায় (Sougata Roy)-এর বক্তব্যের দিকেও ইঙ্গিত করা হয়েছে।
এদিকে কলকাতার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এক বিশিষ্ট মুখ শেন ক্যালভার্টের (Shane Calvert)-এর মন্তব্য, “রাজনীতিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও, পেসকে তাঁর বিবেক, বিশ্বাস এবং সমর্থকদের কাছে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতেই হবে।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তে সম্প্রদায়ের অনেকেই বিস্মিত ও হতাশ।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডার পেজ-এর এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিজেপি তাঁকে সামনে রেখে প্রচারে জোর বাড়াতে চাইলেও, তাঁর সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয় – বিশেষ করে বিভিন্ন সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর অবস্থান কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


