Aaj lndia Desk, কলকাতা: পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় (Beleghata) এক ঘটনা যেন গোটা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। বাজারে গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া, টাকা থাকলেও মিলছে না সিলিন্ডার এই অভিযোগের মাঝেই চোরের এমন দাপট, যা কার্যত পরিস্থিতির ভয়াবহ তা কেই সামনে এনে দিল।অভিযোগ উঠছে, হোটেল – রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে ছোট খাবারের দোকান অনেকেই বাধ্য হয়ে কালোবাজারির দ্বারস্থ হচ্ছেন। আর সেই সুযোগেই তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য চক্র, যেখানে সাধারণ গৃহস্থই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এই অবস্থার মধ্যেই গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে গ্যাস সিলিন্ডার কাঁধে তুলে নিয়ে চম্পট দেওয়ার ঘটনা যেন একপ্রকার সিস্টেমের ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবেই উঠে আসছে।
প্রশ্ন উঠছে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহই অনিশ্চিত, সেখানে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ কোথায়? কালোবাজারি যখন প্রকাশ্যে, তখন প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে তীব্র সমালোচনা। অনেকের মতে, এই চুরি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান অব্যবস্থারই বহিঃপ্রকাশ।পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বটে, কিন্তু তাতে কি আদৌ মূল সমস্যার সমাধান হবে? নাকি এই ঘটনা আরও বড় কোনও সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।
পূর্ব কলকাতার বেলেঘাটায় (Beleghata) এক চুরির ঘটনা যেন বদলে দিল অগ্রাধিকার তালিকা। গয়না বা টাকার চেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল একটি গ্যাস সিলিন্ডার যা আজকের দিনে প্রায় দুষ্প্রাপ্য সম্পদ এর মতোই মূল্যবান হয়ে উঠেছে।চাউলপট্টি রোডের এক গৃহস্থ বাড়িতে গভীর রাতে হানা দেয় চোর। পরিবারের সদস্যরা তখন নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছিলেন। সকালে ঘুম ভেঙে রান্নাঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে লন্ডভন্ড অবস্থা খোলা দরজা, এলোমেলো বাসনপত্র। কিছু বাসনপত্রের সঙ্গে উধাও হয়ে গিয়েছে রূপোর কিছু সামগ্রীও। কিন্তু সব কিছুকে ছাপিয়ে যায় একটাই বিষয় রান্নাঘর থেকে হাওয়া পুরো গ্যাস সিলিন্ডার।
এ যেন শুধু চুরি নয়, সময়ের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। যেখানে বাজারে গ্যাসের জোগান অনিশ্চিত, সেখানে একটি সিলিন্ডারই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই গয়না হারানোর থেকেও বেশি উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সেই সিলিন্ডার হারানোকে ঘিরেই।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বেলেঘাটা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের আর্জি যেভাবেই হোক দ্রুত ধরা হোক এই গ্যাস চোরকে। কারণ, কঠিন পরিশ্রম আর অপেক্ষার পর জোগাড় করা সেই সিলিন্ডারই ছিল তাঁদের নিত্যদিনের ভরসা।
এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যদি এতটাই দুর্লভ হয়ে ওঠে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি কোথায় দাঁড়িয়ে?


