Aaj India Desk, কলকাতা: বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Bandopadhyay)। তিনি দাবি করেছেন বাংলায় বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে পরিকল্পিতভাবে মানুষ ঢোকাচ্ছে বিজেপি(BJP)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও দিল্লির মতো রাজ্যে যেভাবে এই কৌশল প্রয়োগ করে দখল নিয়েছে গেরুয়া শিবির, ঠিক সেই একই ছক এবার বাংলাতেও কার্যকর করতে চাইছে তারা। সোমবার রাতে নির্বাচন কমিশনের(ECI) দফতর থেকে বেরিয়ে এই গুরুতর অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেক জানান, ফর্ম-৬ ব্যবহার করে ভিন রাজ্যের মানুষকে ভোটার তালিকায় ঢুকিয়ে বাংলার জনসংখ্যার চরিত্র বদলানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এই চক্রকে হাতেনাতে ধরেছে তাঁর নেতৃত্বাধীন দল।
ফর্ম-৬ সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে তাঁর হাতে এল, সে বিষয়েও বিস্তারিত বলেন অভিষেক। তিনি জানান, “আমি পুরুলিয়ায় সভা করছিলাম, সেখানেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই। দেখি, ফর্ম-৬ আলাদা করে সিইও অফিসে জমা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাকে ভালোবাসেন এমন কিছু মানুষ, যারা এখানে কাজ করেন, তাঁরাই আমাদের কাছে এই তথ্য পাঠান।” এরপর তিনি অভিযোগ করেন, “সেই ফর্মগুলো পেটি করে দোতলায় স্টোর করে রাখা হচ্ছে। আমি সেই ভিডিয়ো তুলে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছি।”
এদিন অভিষেক নির্বাচন কমিশনের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবিও জানান। তিনি বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী ৫০টির বেশি ফর্ম-৬ জমা দেওয়া যায় না। অথচ আমাদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে, প্রায় ৩০ হাজার ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। যাঁদের এই রাজ্যে ভোটার হিসেবে নাম তোলা হয়েছে, তাঁদের অনেকের নাম আগে থেকেই বিহার ও উত্তরপ্রদেশে রয়েছে।”
কোন কোন এলাকায় বেশি ফর্ম জমা পড়েছে, তারও হিসেব দেন তিনি। অভিষেকের কথায়, “নোয়াপাড়ায় প্রায় ৭০০টি ফর্ম-৬ জমা পড়েছে। ব্যারাকপুর, এগরা, চৌরঙ্গী, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুরেও বিপুল সংখ্যায় ফর্ম জমা পড়েছে। সবমিলিয়ে মোট ৩০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এতগুলো ফর্ম জমা দিতে হলে অন্তত ৬০০ জনকে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই আমরা সিইও-কে বলেছি সিসিটিভি ফুটেজ দেখাতে।” তাঁর দাবি, “যাঁদের নাম জমা পড়েছে, তাঁদের অধিকাংশই বিহারের বাসিন্দা। ব্যারাকপুর, জগদ্দল, ভাটপাড়া, নৈহাটি – প্রতিটি জায়গা থেকেই ৫০০-৭০০ ফর্ম জমা পড়েছে, আর এরা সবাই বিহারের ভোটার।”
এই ইস্যুতে সরাসরি আক্রমণ করেন অমিত মালব্য-কে। অভিষেকের অভিযোগ, “অমিত মালব্য জোর করে বিহারের লোকের নাম ভোটার তালিকায় ঢোকাচ্ছে। ভোটার লিস্টে চুরি চলছে। দিল্লিতে একজন প্রতিমন্ত্রী বিহারের ২৭ জন ভোটারকে অ্যাড করেছেন। বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলাতে চাইছেন অমিত শাহ। অথচ ওরাই অভিযোগ করে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলে দিয়েছেন। আসলে ওরাই এই কাজ করছে। এতদিন ধরে বাংলাকে বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কমিশন কতজনকে খুঁজে পেয়েছে?”
বাঙালি অস্মিতা নিয়েও সরব হন অভিষেক। তিনি বলেন, “কাল বিজেপির এক সাংসদ সিইও অফিসে ফোন করেছেন ফর্ম-৬ নিয়ে, আমার কাছে সেই খবর আছে। অমিত মালব্য চাপ সৃষ্টি করে এই ফর্ম জমা করিয়েছেন। একই ঘটনা মহারাষ্ট্রে হয়েছে। পাঁচ মাসে ৪০ লক্ষ ভোটার যোগ হয়েছে। দিল্লিতে ৫ লক্ষ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। এইভাবেই হরিয়ানা দখল করা হয়েছে। আজ আমরা হাতেনাতে ধরেছি। যদি অবৈধভাবে ভোট দিতে আসে, যারা বাংলায় থাকে না, এখানে বসবাস করে না, তারা বিহার বা উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, তাহলে সেটাই বিজেপির চাওয়া পরিবর্তন। তারা এমন বাংলা চায় যেখানে দুর্গাপুজোর বদলে রামনবমী হবে, আর কী খাওয়া হবে, মাছ না মাংস -সেটাও তারাই ঠিক করবে।”


