Aaj India, কলকাতা: লক্ষ্য একটাই – ‘বাংলা’।এইবার ভোটবঙ্গের ময়দানে নামছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। আর এই আবহেই রাজ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গে পা রাখতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। ৭ বা ৮ এপ্রিল শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে একটি বড় রোড শো করার সম্ভাবনাও রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি, ওই সময়েই উত্তরবঙ্গে একাধিক জনসভাতেও অংশ নিতে পারেন তিনি।
এই প্রস্তুতিকে ঘিরেই ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু হয়েছে গেরুয়া শিবিরে। উত্তরবঙ্গে বৈঠকে বসেছেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল (Sunil Bansal) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav)। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গের একাধিক শীর্ষ নেতা ও সংগঠক। সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফরে মোট চারটি সভার পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও চূড়ান্ত সূচি এখনও দিল্লির সঙ্গে আলোচনার স্তরেই রয়েছে।
এদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)-এরও রাজ্য সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী সপ্তাহেই বাংলায় এসে তিনিও জোনভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক করতে পারেন বলে সূত্রের খবর। বিজেপির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের প্রতিটির সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠকে বসার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর সফরের নির্দিষ্ট সূচি রাজ্য নেতৃত্বের হাতে পৌঁছয়নি। তবে মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁর রাজ্যে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি অনুকূল হলে কয়েকটি জনসভাতেও অংশ নিতে পারেন তিনি।
এবারের নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য একেবারেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী -‘২০০-র বেশি’ আসন জয়ের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছে দল। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে রাজ্য নেতারা বারবার এই লক্ষ্যমাত্রার কথা তুলে ধরছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনায় এসে এই লক্ষ্য স্পষ্ট করে গিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় আসতে চায় বিজেপি।
অন্যদিকে, এই লক্ষ্যকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি (Mamata Banerjee)। পাল্টা হিসেবে তিনি দলের সামনে ২২৬টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর – দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাংলার মাটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।


