25 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

“মিছিল করো, হিংসা নয়” রঘুনাথগঞ্জ কাণ্ডে কড়া বার্তা মমতার

Aaj lndia Desk, পশ্চিম বর্ধমান :রামনবমীর মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে । রানিগঞ্জের জনসভা থেকে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। শুধু রঘুনাথগঞ্জ নয়,বেহালায় দোকান ভাঙচুরের ঘটনাতেও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনকেও নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, “আমায় দোষ দেবেন না, আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নিজেদের মতো করে অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।”সব মিলিয়ে, রামনবমীর অশান্তিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দায় -দায়িত্বের লড়াই আরও তীব্র আর সেই লড়াইয়ে প্রশাসন বনাম রাজনীতির টানাপোড়েনও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

রামনবমীর মিছিল ঘিরে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে যে অশান্তির ছবি সামনে এসেছে, তা নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় ( Mamata Banerjee)। বাড়িঘর ভাঙচুর, আগুন লাগানো এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি,আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন, গ্রেপ্তার হয়েছে আরএসএস(RSS) নেতা-সহ ৩০ জন।

এই প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবেই অশান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং এর নেপথ্যে বিজেপির ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার হাত থেকে লোক সরিয়ে নিয়ে গিয়ে অশান্তি করা হয়েছে।”একই সঙ্গে ধর্মীয় উৎসব পালনের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন রামনবমী পালন নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে সেই মিছিলের আড়ালে হিংসা, ভাঙচুর বা লুটপাটকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর প্রশ্ন, “কারও বাড়ি ভাঙচুর করার অধিকার কে দিল?”

জগন্নাথ ধাম নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিকাঠামো তৈরি করেও বারবার প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। কিন্তু সেই তুলনায় হিংসার ঘটনাগুলিতে কেন নীরবতা সেটাও পরোক্ষে তুলে ধরেন তিনি।শেষে কড়া হুঁশিয়ারি অভিযুক্তদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। “মানুষই বিচার করবে” এই বার্তাতেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

এখানেই থামেননি তিনি। সরাসরি অভিযোগ তোলেন, রামনবমীর মিছিলে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে নামা হচ্ছে, অথচ প্রশাসনের তরফে কার্যত কোনও পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সিউড়ির ঘটনার উল্লেখ করে তাঁর প্রশ্ন, “বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করা হচ্ছে, কিন্তু ব্যবস্থা কোথায়?”এই পরিস্থিতিতে তাঁর কটাক্ষ “নিজেদের মতো করে লোক বসালেও, বাংলার মানুষ শেষ কথা বলবে।” অর্থাৎ, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিযোগ তুলে তিনি একদিকে কমিশনকে আক্রমণ করেছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাসের বার্তাও দিয়েছেন।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে মমতার অভিযোগ, প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার্যত তাঁর হাতের বাইরে। তাঁর কথায়, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim )থাকলেও, নিয়োগ ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা এখন কমিশনের হাতেই। বেহালার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বুলডোজার চালিয়ে যেভাবে দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এই ভাঙচুর আমাদের নির্দেশে হয়নি। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের দোকান আমরা আবার গড়ে দেব।”একইসঙ্গে তাঁর কড়া অভিযোগ, নির্বাচন পর্বে প্রশাসনিক বদল ও নিয়ন্ত্রণের নামে “যা খুশি তাই” চলছে। এমনকি কেন্দ্রকেও নিশানা করে তাঁর তীব্র কটাক্ষ এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘অত্যাচার’ বলেই বর্ণনা করেন।

সব মিলিয়ে, একদিকে ক্ষমাপ্রার্থনা ও ক্ষতিপূরণের আশ্বাস, অন্যদিকে কমিশন ও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দুই সুরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

 

 

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন