Aaj lndia Desk,মালদহ : মালদহের মানিকচকে যেন ইতিহাসের বুকে আচমকাই উঠে এল এক বিতর্কের দাগ। ঘোড়ার পিঠে বীরের ভঙ্গিতে থাকা সুভাষচন্দ্র বসু-র মূর্তিকে ঘিরে ঘটল এমন এক ঘটনা, যা ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন।অভিযোগ, আপসহীন এই স্বাধীনতা সংগ্রামীকে গেরুয়া পতাকায় ঢেকে দেওয়ার পাশাপাশি, তাঁর হাতেও জোর করে তুলে দেওয়া হয় একটি ধর্মীয় পতাকা। শুধু তাই নয়, পাশে থাকা জাতীয় পতাকা বাঁধার কাঠিও ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। ফলে গোটা ঘটনাকে অনেকেই দেখছেন শুধু একক কোনও কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, বরং তা এক গভীর প্রতীকের অবমাননা হিসেবেই। ঘটনার সময় এলাকায় একটি ধর্মীয় মিছিল চলছিল বলেও জানা গিয়েছে। অভিযোগের তির উঠেছে মানিকচক বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গৌরচন্দ্র মণ্ডলের দিকেও, যিনি সেই মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের।
বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এমন ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে যে নেতাজি ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, তাঁকেই কি এবার রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত করার চেষ্টা চলছে?এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা দ্রুত তীব্র আকার নিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি প্রার্থীর নেতৃত্বেই তাঁর সমর্থকেরা এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। শুধু অভিযোগেই থেমে না থেকে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সুভাষচন্দ্র বসু র প্রতি অসম্মান এবং জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
ঘটনার জেরে মানিকচক থেকে শুরু করে গোটা জেলাজুড়েই তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে। নানা মহল থেকে উঠেছে সমালোচনার ঝড়, রাজনৈতিক উত্তাপও ক্রমশ বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন।
অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত বিজেপি প্রার্থী। তাঁর দাবি, ওই সময় রামনবমী উপলক্ষে একটি ধর্মীয় মিছিল চলছিল, আর সেই প্রেক্ষিতেই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে এই ব্যাখ্যা ঘিরেও বিতর্ক থামেনি বরং প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়েছে।


