Aaj India Desk,দক্ষিণ ২৪ পরগণা: নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে ভাঙড় (Bhangar)। নাগাড়ে উদ্ধার হচ্ছে বোমা ও বন্দুক যেন ভোটকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে আইন শৃঙ্খলার বিরুদ্ধে এক অচেনা যুদ্ধের ময়দানে। শনিবার গভীর রাতে উত্তর কাশীপুর থানার ছেলেগোয়ালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় ধানক্ষেতের মধ্য থেকে তাজা বোমা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই সপ্তাহে বামুনিয়া গ্রাম থেকেও বোমা ও বন্দুক মিলেছে। প্রশ্ন তো উঠতেই পারে: নির্বাচনী হিংসা কি স্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে, নাকি আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একেবারেই ব্যর্থ?ভোটকে নিরাপদ রাখার কথা বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কি সতর্কতার অভাবই দেখাচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক অস্থিরতার বহিঃপ্রকাশ?
পুলিশ জানিয়েছে,শনিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ৭টি তাজা বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এলাকার কিছু বাসিন্দা প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান এবং তাদের সন্দেহ হওয়াতে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ওই ব্যাগ থেকে বোমাগুলি উদ্ধার করে।
পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে, এতগুলি তাজা বোমা ওই এলাকায় কীভাবে পৌঁছেছে এবং এর পেছনে কে বা কারা জড়িত। এ ঘটনার পেছনে দায় চাপানোর অভিযোগও শুরু হয়েছে ভাঙড়ের ঘটনায় আইএসএফ (ISF) ও তৃণমূল (TMC) একে অপরের দিকে তোপ দিচ্ছে।
এই সপ্তাহের মঙ্গলবারও ভাঙড় থেকে বিপুল পরিমাণ বোমা উদ্ধার হয়। পুলিশ অবজার্ভারের পরিদর্শনের সময়ই এগুলি পাওয়া যায়। সকালে চণ্ডীহাট গ্রামে নুরুল মোল্লা নামে এক তৃণমূল কর্মীর দোকান থেকে তিনটি বোমা উদ্ধার করা হয়। আইএসএফ (ISF) দাবি করেছে, বিরোধীদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে নুরুল মোল্লা বোমাগুলি রেখে দিয়েছিলেন।
একই দিনে বিকেলে বামুনিয়া গ্রামে একটি ডোবা থেকে ৮০টিরও বেশি বোমা উদ্ধার হয়। দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রাম থেকে একটি একনলা বন্দুক ও কয়েকটি কার্তুজও পাওয়া যায়। তবে তৃণমূল এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে।
প্রশ্ন উঠে, এই ধরনের বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র কেন এবং কারা রেখে যাচ্ছে? নির্বাচনের উত্তাপের মধ্যেই ভাঙড় যেন হয়ে উঠেছে এক বিস্ফোরণশীল রাজনীতির ময়দান।


