Aaj India Desk, পূর্ব বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে ভোটার তালিকা ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। যিনি একসময় দেশের বিভিন্ন নির্বাচনে আধিকারিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন, সেই প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিনের নামই বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে। ৭৬ বছরের মতিনের এই অভিজ্ঞতা শুধু বিস্ময়কর নয়, বরং গভীরভাবে ভাবনারও বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় জামালপুর বিধানসভার অন্তর্গত তুরুক-ময়না গ্রামে ২০০-রও বেশি বাসিন্দার নাম ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে বাদ গেছে। এই তালিকায় রয়েছেন প্রাক্তন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মহম্মদ মতিন নিজেও। দীর্ঘদিন ধরে ভোট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজের গ্রামেই ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে যাওয়ায় হতবাক তিনি। শুধু মতিনই নন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্যের নামও এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
মহম্মদ মতিনের কর্মজীবনের সূচনা ১৯৭৪ সালে জলপাইগুড়িতে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের কে.জি.ও পদে। এরপর ধাপে ধাপে তিনি একাধিক জেলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০৩ সালে বিডিও পদে পদোন্নতি পেয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি-১ এবং সাগরদিঘী ব্লকে কাজ করেন। পরবর্তীতে হুগলিতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। অবসর গ্রহণ করেন ২০১০ সালে। তবে সেখানেই থেমে থাকেননি -২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বর্ধমান পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
মতিনের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের ডাকা শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তিনি নিজের চাকরির পরিচয়পত্র, পুরনো ভোটার তালিকার নথি, পাসপোর্ট এবং পেনশন সংক্রান্ত সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবুও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত বা সাপ্লিমেন্টারি (Supplementary) তালিকায় তাঁর নাম রাখা হয়নি। এই ঘটনাকে তিনি অপমানজনক এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক বলে মনে করছেন।
এই প্রসঙ্গে মতিনের বড় ছেলে মহম্মদ মোহিত, যিনি পেশায় একজন শিক্ষক, জানিয়েছেন -তাঁর মা রেজিনা বেগম, কাকিমা কাজী ওবায়দাতুল্লাহ এবং আত্মীয় আব্দুল বসিতের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁর কথায়, “এই বয়সে এসে নিজের বাবা-মা যদি ভোটার হিসেবেই স্বীকৃতি না পান, তার থেকে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে যাঁর কাছে একসময় গ্রামবাসীরা নথিপত্রে সই করানোর জন্য যেতেন, সেই মতিনের নামই তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় হতবাক স্থানীয়রা।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তুরুক-ময়না গ্রামের মোট ২৪৯ জন ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২০৬ জনের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়ে। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় পরিকল্পিতভাবে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। সাংসদ সায়নী ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, “এটাই কি চাওয়া হয়েছিল? নির্বাচন কমিশনের কাজ তো বেশি করে মানুষের নাম অন্তর্ভুক্ত করা, অথচ এখন দেখা যাচ্ছে নাম বাদ দেওয়াই যেন প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিশন যেন বিজেপির হয়ে কাজ করছে।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা ডা: শান্তরূপ দে বলেন, “নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তৃণমূল কংগ্রেস অযথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।”


