কলকাতা: আর জি করে তরুণী চিকিৎসকের গণধর্ষণ, খুনের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সমগ্র দেশ। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ অভয়ার (Abhaya) বিচারের দাবীতে ‘রাত দখল’ করেছিলেন। গৃহবধূ থেকে শুরু করে ছাত্রী, নারী, সমাজকর্মী থেকে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, নারী-পুরুষ উভয়ই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অপরাধীদের শাস্তির দাবীতে পথে নেমেছিলেন। তাঁরা কি সবাই নিজেদের স্বার্থের জন্য অভয়ার বিচার চেয়েছিলেন?
বৃহস্পতিবার বিজেপির প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়ানোর জল্পনায় আর জি কর আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন অভয়ার (Abhaya) মা। বিশেষত সিপিএমের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী অভয়ার মায়ের অভিযোগ, ভোট কাটানোর রাজনীতির জন্য নাকি তাঁর মেয়ের নাম ব্যবহার করা হয়েছে! এই নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মীনাক্ষী, শতরূপ। অভয়ার বাবা-মায়ের বিস্ফোরক দাবী নিয়ে এবার মুখ খুললেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
কি বললেন সেলিম?
মহম্মদ সেলিম বলেন, ডিউটিরত পিজিটি চিকিৎসকের গণধর্ষণ ও খুন নজিরবিহীন। প্রথমে মৃত্যুর খবর গোপন করা হয়, পরে আত্মহত্যার তত্ত্ব সামনে আনা হয় এবং তড়িঘড়ি করে পোস্টমর্টেম করা হয় নিয়ম ভেঙে। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশে ভিডিওগ্রাফির কথা ওঠে এবং শুরু থেকেই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ায় বাম ছাত্র-যুবরা।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর লাশ তখন পড়ে রয়েছে…এই কলতান, মীনাক্ষী, ধ্রুব, আমাদের ছাত্র-যুব বাহিনী, বুদ্ধদার শেষ যাত্রা থেকে সরে গিয়ে গাড়ি আটকায়। তখন ওই মা অসহায়। আজ মীনাক্ষী বলেছেন, তখন তো আমরা দেখিনি এটা কার লাশ…সিপিএম, না এসএফআই, না ডিওয়াইএফের। তাঁর বাবা-মাকেও আমি চিনতাম না। কিন্তু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বামপন্থী ছাত্র-যুবরা”।
কি বলেছেন অভয়ার মা-বাবা?
প্রসঙ্গত, গতকাল নিজেই ফোন করে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বলেন অভয়ার (Abhaya) মা। তিনি বলেন, “বিচারের লড়াই কঠিন হয়ে উঠছে। তাই আমার মনে হয়েছে ক্ষমতা পাওয়া জরুরী। আগেও বিজেপির তরফে রাজনীতিতে যাওয়ার কথা বলা হলেও আমি রাজি হইনি। কিন্তু এবার আমি নিজেই ফোন করে ইচ্ছাপ্রকাশ করেছি”।
পাশাপাশি অভয়ার বাবার বক্তব্য, আর জি কর কান্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যারা যুক্ত ছিলেন তারা মেয়ের ন্যায়ের জন্য নয়, নিজেদের স্বার্থে নেমেছিলেন। বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি বা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, শুরু থেকেই আন্দোলনের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ ছিল এবং তাঁর মেয়ের মৃত্যুকে রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।


