Aaj lndia Desk,নদীয়া:নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই “আইনের পাঠ”ভুলে গেলেন কর্তব্যরত কর্মীরাই এমনই অভিযোগে তোলপাড় রানাঘাট। ভোটকর্মী (Poll Worker)তথা শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়কে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই সরকারি কর্মীকে। ধৃতরা হলেন নিজামুদ্দিন সর্দার ও মানস বন্দ্যোপাধ্যায়, যাদের রানাঘাট থানার পুলিশ আটক করেছে।অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নিজামুদ্দিন সর্দার হাঁসখালি সমষ্টি উন্নয়ন অফিসের পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মী। অন্যদিকে মানস বন্দ্যোপাধ্যায় ব্লক অফিসে ওসি ইলেকশন পদে কর্মরত ছিলেন ।
প্রশ্ন উঠছে, যারা নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে, তারাই যদি এমন ঘটনায় জড়ান, তবে সাধারণ ভোটকর্মী (Poll Worker)দের নিরাপত্তা কোথায়? আজ ধৃতদের রানাঘাট আদালতে তোলা হবে, তবে এই ঘটনায় নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়েই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।
রানাঘাটের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই কি তবে “প্রচার মঞ্চ”?শুক্রবার দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ স্কুলে ভোটকর্মীদের ট্রেনিং চলাকালীন হঠাৎই প্রজেক্টারে ভেসে ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি-সহ একটি বিজ্ঞাপন আর সেখান থেকেই শুরু তুমুল বিতর্ক।
নির্বাচনী বিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে সরব হন ভোটকর্মী তথা শিক্ষক সৈকত চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু অভিযোগ, নিয়মের প্রশ্ন তুলতেই উল্টে তাঁকেই চুপ করানোর চেষ্টা! বিডিও অফিসের কয়েকজন কর্মী তাঁর উপর চড়াও হন বলে দাবি, এমনকি তাঁকে মারধর করে রক্তাক্ত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চাপে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন উঠছে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, তবে ভোটের নিরপেক্ষতা কতটা সুরক্ষিত?ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে জেলা নির্বাচন দপ্তরের কাছে।
ভোটের দিন কেন্দ্রে কর্মীদের উপর হামলার ছবি নতুন নয় এমন ঘটনা বহুবার শিরোনাম কেড়েছে। কিন্তু এবার প্রশ্নটা আরও গভীরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়েও যদি নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়, তবে মাঠে নেমে সেই কর্মীরা কতটা সুরক্ষিত থাকবেন?
বিতর্ক তাই থামছেই না। ভোট পরিচালনার আগে যেখান থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা, সেখানেই যদি আতঙ্কের ছায়া থাকে, তাহলে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপরই আস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।


