Aaj lndia Desk,বীরভূম:– বীরভূমের সিউড়ি মহকুমার খয়রাশোল বিডিও (BDO) অফিসের এক কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। মৃতের নাম অরূপ পাঁজা (Arup Panja) (৫৫)।পরিবারের দাবি, নিজের বাড়ির কুয়োতে ঝাঁপ দিয়েই আত্মঘাতী হন তিনি। ইতিমধ্যেই ঘটনাটি ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে সিউড়ি থানার পুলিশ।ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পুলিশ মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।বীরভূমের সিউড়ির ডাঙ্গালপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন অরূপ পাঁজা। পেশায় তিনি খয়রাশোল বিডিও অফিসের কর্মী ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে, প্রায় ১টা নাগাদ অফিস থেকে বাড়ি ফেরেন তিনি। তবে কিছুদিন ধরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের ।সোমবার সকালে চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে বাড়ির সামনের কুয়োতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন অরূপ পাঁজা। ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকাজুড়ে।
মৃতের স্ত্রী রেনুকা পাঁজার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপে ভুগছিলেন তাঁর স্বামী। তাঁর কথায়, বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো অরূপ পাঁজাকে।
রেনুকা দেবী জানান, এর আগেও একবার অফিসের মধ্যেই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, অন্য কর্মীদের ছুটি দেওয়া হলেও অরূপকে প্রায়ই অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত কাজ করানো হতো। ডিপোতে কাজের চাপও ছিল অত্যন্ত বেশি। তিনি আরও বলেন, “গতকালও রাত প্রায় একটা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিল আমার স্বামী,” যা পরিস্থিতির গভীরতা আরও স্পষ্ট করছে।
অভিযোগের পরেও নীরব প্রশাসন! খয়রাশোলের বিডিও সৌমেন্দু গঙ্গোপাধ্যায়-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। এমন সংবেদনশীল ঘটনার পর তাঁর এই নীরবতা ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
অন্যদিকে, বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন জানান, এখনও পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও রিপোর্ট তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। রিপোর্ট এলে তবেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।একজন সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পরেও প্রশাসনের এই ‘অপেক্ষা’ ও ‘ নীরবতা ‘ নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, ঘটনার গুরুত্ব অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হচ্ছে।


