Aaj India Desk, কলকাতা: অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়(Rahul Bandopadhyay)-এর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর থেকেই একটাই প্রশ্ন বারবার উঠে আসছে। শুটিংয়ের সময় শিল্পীদের নিরাপত্তা কোথায়? ইতিমধ্যেই একাধিক তারকা এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন, জোরালো দাবি উঠেছে নিরপেক্ষ তদন্তের। এই আবহের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়াল সেই প্রযোজনা সংস্থা, যার অধীনে কাজ করছিলেন রাহুল। সর্বভারতীয় সিনে সংগঠন তাদের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার দাবি তুলেছে। পাশাপাশি মৃত অভিনেতার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জোরদার হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ওড়িশার (Odisha) তালসারিতে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু সেই সফরই হয়ে উঠল শেষ যাত্রা। সমুদ্রে তলিয়ে যান তিনি। পরে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে সব শেষ। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ফুসফুসে নোনা জল সহ বালি ঢুকে যাওয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।
পুলিশ সূত্রে খবর, হাঁটুজলে একটি নাচের দৃশ্যের শুটিং চলাকালীন আচমকাই একটি গর্তে পড়ে যান রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় ও সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। শ্বেতাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রাহুলকে তুলতে তুলতে অনেক দেরি হয়ে যায়। ততক্ষণে তিনি বিপুল পরিমাণ নোনা জল গিলে ফেলেছিলেন। এই ঘটনার পরই একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার সময় অন্য কলাকুশলীরা কোথায় ছিলেন? কেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না? কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ শুটিংয়ে নজরদারি করা হয়নি?
এই প্রেক্ষিতে অল ইন্ডিয়া সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA) তাদের এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তাদের দাবি, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট চ্যানেলকে অবিলম্বে ব্ল্যাকলিস্ট করা হোক। পাশাপাশি অভিনেতার পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য আরও তীব্র। তাদের মতে, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং খুনের সামিল। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত বলেই দাবি তাদের। তারা প্রশ্ন তুলেছে, কেন প্রযোজনা সংস্থা ও চ্যানেল নিরাপত্তা নিয়ে উদাসীন ছিল? খরচ বাঁচানোর জন্য কি এই অবহেলা?
সবশেষে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছে-পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা ও চ্যানেলের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হোক।


