Aaj lndia Desk,খড়্গপুর: শুক্রবার সকালে রামসরিষা শীতলা মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে নারায়ণগড়ের বিজেপি প্রার্থী (BJP) রমাপ্রসাদ গিরি।বিজেপি(BJP)র অভিযোগ,তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে বাধা দিয়ে হেনস্থা করেন।তবে তৃণমূলে (TMC)র কড়া পাল্টা”সবটাই সাজানো স্ক্রিপ্ট! ভোটের আগে সহানুভূতি কুড়োতেই এই নাটক।”পুজোর জায়গা কি তবে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ? প্রশ্ন উঠছে এখানেই।
শুক্রবার সকালে পুজো দিতে গিয়ে বাধার অভিযোগ তুলে সরব বিজেপি প্রার্থী রমাপ্রসাদ গিরি।তাঁর দাবি, মন্দিরে ঢুকতেই নিতাই দত্ত ও নিত্যানন্দ দাস নামে দুই ব্যক্তি তাঁকে আটকে দেন,এমনকি ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বসে বিক্ষোভে নামেন তিনি।এরপরই পরিস্থিতি বড় আকার ধারণ করে। সমর্থকদের নিয়ে বেলদা-মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন বিজেপি প্রার্থী। প্রায় ঘণ্টাখানেক অবরোধে ব্যাপক যানজট,ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক প্রতিবাদে কি সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন?
পরে বেলদার এসডিপিও রিপন বাউল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অবরোধ উঠলেও থামেনি বিক্ষোভ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের করেন,পাশাপাশি প্রতিবাদও চালায় বিজেপি। রমাপ্রসাদের অভিযোগ,”প্রচারে বাধা দিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে, এর পিছনে তৃণমূলের চক্রান্ত রয়েছে।”তবে বিরোধীদের কটাক্ষ ভোটের মুখে সহানুভূতির রাজনীতিই কি আসল লক্ষ্য?মন্দির থেকে মিছিল, আর মিছিল থেকে অবরোধ নারায়ণগড়ে এই ঘটনার জেরে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ।
রমাপ্রসাদ গিরির হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে এবার পাল্টা বয়ান সামনে এল ঘটনাস্থল থেকেই।যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ,সেই নিতাই দত্ত দাবি করলেন ঘটনাটা আদৌ তেমন কিছু নয়।তাঁর কথায়,”আমি একাই ছিলাম।প্রার্থীকে পেয়ে শুধু প্রশ্ন করেছিলাম একশো দিনের কাজের টাকা কোথায়?ভোটের আগে এত প্রতিশ্রুতি,তারপর আর দেখা নেই কেন?”নিতাইয়ের সাফ বক্তব্য,কোনও হেনস্থা নয় এটা ছিল একজন সাধারণ নাগরিকের প্রশ্ন তোলার অধিকার।”উনি উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান,এখন উলটে অভিযোগ করছেন,”বলেই কটাক্ষ তাঁর।
অন্যদিকে,তৃণমূল প্রার্থী প্রতিভারানি মাইতির দাবি আবারও রাজনৈতিক,তাঁর কথায়,নারায়ণগড়ের মানুষ ওঁকে মেনে নিতে পারছেন না।আগে তৃণমূলে থেকে সব সুবিধা নিয়েছেন,এখন দল বদলে সেই দলের বিরুদ্ধেই কথা বলছেন এটাই মানুষের ক্ষোভের কারণ।”
ফলে প্রশ্নটা আরও জটিল-এটা কি সত্যিই রাজনৈতিক হেনস্থা, নাকি জনতার ক্ষোভের সরাসরি বহিঃপ্রকাশ?নাকি ভোটের মুখে দুই পক্ষই নিজেদের মতো করে গল্পটা সাজাচ্ছে?


