Aaj India Desk,হুগলি : মগরাহাট পশ্চিম ব্লকে ভোটের আগেই উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল যুব সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি ভোটারদের হুমকি দেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত এগোচ্ছে, ততই হুমকি-হুঁশিয়ারির অভিযোগ সামনে আসছে। বহরমপুর ও জীবনতলার পর এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা। স্থানীয়দের দাবি, ভোটের উত্তাপে কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং কর্মী ভোটারদের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “ভয় দেখানো সাধারণত সেই পক্ষের থেকে আসে, যার মধ্যেই ভোটের ফল নিয়ে আশঙ্কা কাজ করছে।”এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সতর্ক থাকলেও, ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
সমাবেশে তিনি বলেন,
“৭০০টা ভোট এই বুথে ৭০০টা জোড়াফুলে দিতে হবে। অন্য কোথাও ভোট পড়লে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে। তৃণমূলের সঙ্গে বেইমানি করলে ২০২১-এর মতো ক্ষমা হবে না। যারা তৃণমূল করতে চায়, তারা এলাকায় থাকুক; নাহলে আজকের পর থেকে বৌ-বাচ্চা নিয়ে চলে যেতে হবে।”এই ভিডিও ভাইরাল হতেই রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা সজল ঘোষ অভিযোগ করেন,”এরা তৃণমূলের সম্পদ, তাদের এমন ওষুধ দিতে হবে যাতে ভোটের পরে সোজা দাঁড়াতে না পারে। এরা বলছে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে, ভোটের পরে এরাই পালিয়ে যাবে।”রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের হুঁশিয়ারি সাধারণত সেই পক্ষের পক্ষ থেকে আসে যার নিজের মধ্যেই ভোটের ফল নিয়ে আশঙ্কা কাজ করছে। এলাকায় সাধারণ মানুষ ভোটের সময় নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুধু মগরাহাট নয়, বহরমপুরেও ভোটের আগেই হুঁশিয়ারির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বহরমপুরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি রাজু মণ্ডল দেখা গিয়েছে তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়ের প্রচারে ভোটারদের কার্যত হুমকি দিতে। ভিডিওতে তিনি বলেন, “পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না, খাতায় এন্ট্রি করা থাকবে। কোন বাড়ির কে ভোট দিচ্ছে, সব মোটামুটি আমাদের ক্যামেরায় থাকবে।”এর আগে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারও একই ধরনের হুঁশিয়ারির সুরে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন,
“যাঁরা আমাদের পোলিং এজেন্ট হবেন, শুধু খেয়াল রাখবেন আঙুলটা কোথায় যাচ্ছে”নির্বাচন কমিশন ভোট সুষ্ঠু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও, শাসক দলের নেতাদের এই হুঁশিয়ারি-ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষ কি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন?রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের আগে এমন হুমকি সাধারণত সেই পক্ষের পক্ষ থেকে আসে যার নিজের মধ্যেই ফল নিয়ে আশঙ্কা কাজ করছে।


