Aaj India Desk,উত্তর দিনাজপুর: ডালখোলা বিধানসভা কেন্দ্রে যা ঘটেছে, তা এখন আর শুধুই একটি স্থানীয় বিতর্ক নয় এটি রাজ্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, প্রশাসনিক অগ্রাধিকার এবং জননেতাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম পালের প্রচারে অভিনেতা-সাংসদ দেব (Dev)-এর আগমন ঘিরে যে ঘটনাপ্রবাহ তৈরি হয়েছে, তা কার্যত আগুনে ঘি ঢেলেছে।
সূত্রের দাবি, দেবের জনসভাকে নিখুঁত করতে বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার আড়ালে যে চিত্র উঠে এসেছে, তা আরও বিস্ফোরক। পুলিশকর্মীদের থাকার জন্য বেছে নেওয়া হয় একটি সরকারি স্কুল যেখানে চলছিল পরীক্ষা। অর্থাৎ, একদিকে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পরীক্ষা, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রচারের প্রস্তুতি এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী হল কোনটা ? তা আর আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না।
স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, স্থানীয় থানার তরফে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত নির্দেশ পাঠানো হয় হেডমাস্টারের কাছে। কোনও লিখিত সরকারি নোটিশ নয়, কোনও বিকল্প ব্যবস্থাও নয় শুধু একটি বার্তা ,আর তাতেই থমকে গেল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপ। মাঝপথেই বন্ধ হয়ে গেল ক্লাসরুমের স্বাভাবিকতা, ছাত্রছাত্রীরা পড়ল অনিশ্চয়তার মুখে।
এখানেই প্রশ্নের কেন্দ্রে উঠে আসছেন দেব (Dev)। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি একজন নির্বাচিত সাংসদ জনগণের প্রতিনিধি। তাঁর একটি সভার জন্য যদি একটি স্কুলের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়, তবে সেই নৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়া কি সম্ভব? তিনি কি জানতেন না এই ব্যবস্থার কথা? নাকি জানলেও নীরব থেকেছেন?
সমালোচকদের বক্তব্য আরও তীব্র “এটা আর শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, এটা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর নগ্ন উদাহরণ। একজন তারকা-সাংসদের সভা সফল করতে গিয়ে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎকে বলি দেওয়া হচ্ছে!”আরও বড় প্রশ্ন উঠছে এই কি সেই জননেতা, যাঁর কাছে মানুষের স্বার্থ সবার আগে থাকার কথা? নাকি “তারকা ইমেজ” আর রাজনৈতিক প্রভাবের চাপে বাস্তব সমস্যাগুলো চাপা পড়ে যাচ্ছে?
ঘটনাটি এখন শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গিকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। পরীক্ষা কি এতটাই তুচ্ছ যে একটি সভার জন্য তা স্থগিত রাখা যায়? আর যদি তাই হয়, তাহলে আগামী দিনে কি প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্যই স্কুল কলেজ বন্ধ রাখতে হবে?
বিরোধীরা ইতিমধ্যেই সরব তাদের দাবি, এটি স্পষ্টভাবে “প্রশাসনের অপব্যবহার ” এবং “গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবমাননা”। সোশ্যাল মিডিয়াতেও ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনেকেই লিখছেন,”তারকা এলে স্কুল বন্ধ এই কি নতুন বাংলা?”
ডালখোলার এই ঘটনা এখন এক প্রতীক হয়ে উঠেছে যেখানে রাজনীতি বনাম শিক্ষার লড়াইয়ে, আপাতত হার মানতে হয়েছে পড়ুয়াদেরই। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে রয়েছেন দেব (Dev) যাঁর নীরবতাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠছে।


