Aaj India Desk, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)একটি জনমুখী সামাজিক প্রকল্প, নাকি নিখুঁত রাজনৈতিক কৌশল? এই প্রশ্নটাই ক্রমশ সামনে আসছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই বিতর্কই যেন নতুন করে উসকে উঠল। জনসভা থেকে তাঁর চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) -এর মডেল অনুসরণ করে বিজেপি অন্য কোনও রাজ্যে একই প্রকল্প চালু করে দেখাক শুধু রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত বার্তা
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রকল্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? একদিকে, রাজ্যের বহু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলারা সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন যা নিঃসন্দেহে সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, এই ধরনের নগদ হস্তান্তর কি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা গড়ে তুলতে সাহায্য করছে, নাকি ভোটের আগে নির্ভরশীলতার সংস্কৃতি তৈরি করছে?তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্টভাবেই বুঝেছে যে, এই প্রকল্প তাদের ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষত মহিলা ভোটারদের মধ্যে এর গ্রহণযোগ্যতা বিপুল। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এটি নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কিন্তু সমালোচকদের দাবি, উন্নয়নমূলক স্থায়ী অবকাঠামো বা কর্মসংস্থানের বদলে এই ধরনের প্রকল্পে জোর দেওয়া আসলে রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতা ছাড়া আর কিছু নয়।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি- (BJP ) র বিরুদ্ধে ছোঁড়া চ্যালেঞ্জও পুরোপুরি নির্দোষ নয়। কারণ প্রতিটি রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ও অগ্রাধিকার আলাদা। ফলে এক রাজ্যের প্রকল্প অন্য রাজ্যে হুবহু প্রয়োগ করা বাস্তবসম্মত কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।বিনপুরে সভামঞ্চ থেকেই বিজেপিকে কার্যত ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলায় যেভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু হয়েছে, সাহস থাকলে বিজেপি অন্য কোনও রাজ্যে তা করে দেখাক। যদি পারে, তাহলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আমি নিজেই রাজনীতির ময়দান থেকে সরে গিয়ে আর সমর্থন চাইব না।”
সব মিলিয়ে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখন শুধুমাত্র একটি সামাজিক প্রকল্প নয় এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। ৪ মে-র ফলাফল হয়তো কিছুটা দিক নির্দেশ করবে, কিন্তু ২০২৬-এর ভোটে এর প্রকৃত প্রভাব কতটা গভীর হবে, সেটাই দেখার।


