Aaj India Desk, কলকাতা: জানেন নেতাদের সম্পত্তির পরিমাণ কত? জানলে চোখ কপালে উঠবে!এক নজরে নেতাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পদের পরিমাণ কতটা জমি, কত টাকা ব্যাংকে, আর অন্যান্য সম্পদ, সবই এই তালিকায়। জল্পনা যে সত্যি হয়ে উঠল, তা প্রমাণ করল কংগ্রেস। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁদের হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)। এই সুযোগে তিনি নিজস্ব সম্পত্তির খতিয়ানও প্রকাশ করলেন। চলুন একটু ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখা যাক, পাঁচবারের সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্পত্তির পরিমাণ।
অধীররঞ্জন চৌধুরীর (Adhir Ranjan Chowdhury) হলফনামা বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫,০৭০ টাকা, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ছিল ১১,৮৫,২২০ টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে মোট ৫টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে আছে বেআইনিভাবে জমায়েত, গোষ্ঠী সংঘর্ষে উস্কানি দেওয়া এবং তদন্তকারী অফিসারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। বর্তমানে অধীরের হাতে রয়েছে ৯৪,৫০০ টাকা।অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অতসী চ্যাটার্জি চৌধুরী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় করেছেন ১৪,২৮,৫৭০ টাকা, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ২০,৪২,৩৪০ টাকা। বর্তমানে অতসীর হাতে আছে ৭,২৫,০০০ টাকা।অধীররঞ্জন চৌধুরী(Adhir Ranjan Chowdhury)র সম্পদের হিসাবও কম চমকপ্রদ নয়। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের পার্লামেন্ট হাউস শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৬,১৮,৭৬৯ টাকা। এছাড়া, দু’টি এলআইসি পলিসি আছে, প্রতিটির মূল্য ১,৫০,০০০ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫,৫০০ টাকা। সোনার পরিমাণ ২০০ গ্রাম, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৭,৬০,০০০ টাকা। এছাড়া, তাঁর কাছে একটি গাড়ি রয়েছে। সব অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪৮,৪০,৬০২ টাকা।অধীরের স্ত্রী অতসী চ্যাটার্জি চৌধুরীর স্থাবর সম্পত্তি ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮,৫০০ টাকা, আর সোনার পরিমাণ ৭৩০ গ্রাম, যার বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৪,০০০ টাকা। তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯,৯৩৪ টাকা।
এবার নজর যাক বীরভূমের তৃণমূলের এক দাপুটে নেতার দিকে। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও জেলা কোর কমিটির সদস্য কাজল শেখ(Kajal Sheikh), যিনি অনুব্রত মণ্ডল জেলে থাকাকালীন গোটা জেলার দলের কার্যক্রমকে শক্ত হাতে সামলেছেন। এবার তিনি বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াচ্ছেন সংখ্যালঘু অধ্যুষিত হাসন কেন্দ্র থেকে।কাজল শেখ (Kajal Sheikh) ও তাঁর পরিবারের সম্পদের বিষয়েও বীরভূমে নানা জল্পনা চলতে থাকে। কিন্তু নির্বাচনী হলফনামা বলছে বাস্তব গল্পই নিজেই নিজের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ করেছেন কাজল। তাতে উঠে এসেছে বেশ চমকপ্রদ তথ্য, যা জানলে অবশ্যই নজর কেড়ে নেবে।কাজল শেখের হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় দাঁড়িয়েছে ৮,৩১,২৯৪ টাকা। সেই সময়ে তাঁর স্ত্রী নাহিদা খাতুনের আয়ের পরিমাণ ছিল ৭,৫৯,৩৬৩ টাকা। কাজলের হাতে নগদ আছে ১,১৭,২৫৬ টাকা, আর স্ত্রীর হাতে রয়েছে ১,৩৭,৭৯৯ টাকা।ব্যাংক হিসাবেও তাঁর সম্পদের ভরপুর উপস্থিতি নানুরের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক শাখায় জমা আছে ৯,৭৬,৪৮৮.৩০ টাকা, আর শান্তিনিকেতনের একটি শাখায় ৪৩,১৮,১৫৫.৯২ টাকা। সব অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে কাজলের মোট অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪,১১,৯০০.৩৬ টাকা। স্ত্রীর ব্যাংক ও গয়না মিলিয়ে মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৭,৯০,২৮৮.১৮ টাকা।
দৌড়প্রতিযোগিতা এত জোরালো যে চোখ কপালে উঠার মতো! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (WB Assembly Election 2026) নন্দীগ্রাম আসনে মুখোমুখি লড়াই করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী পবিত্র কর (Pabitra Kar)। বৃহস্পতিবারই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র। স্বাভাবিক নিয়মে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে সম্পত্তির খতিয়ান পর্যন্ত সব কিছু প্রকাশ করেছেন। চলুন এক নজরে দেখে নিই পবিত্রের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং সম্পদের পরিমাণ।হলফনামা বলছে, ১৯৯৮ সালে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন পবিত্র কর। এক সময় শুভেন্দুর অনুগামী হিসেবে পরিচিত এই ৪৩ বছরের প্রার্থী ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে আয় করেছেন ৪,৯৯,৫৫০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষেও আয়ের পরিমাণ প্রায় একইরকম ছিল, ৪,৩৪,৮৪০ টাকা। বর্তমানে তাঁর হাতে নগদ আছে ৫৪,৫৩০ টাকা।ব্যাংক হিসাবও চোখ কপালে তুলবে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের একটি অ্যাকাউন্টে জমা আছে ৩,৩৩,৫৭৬ টাকা, আর অন্য একটি অ্যাকাউন্টে আছে ১,০০০ টাকা। পবিত্রের দুটি জীবনবিমা রয়েছে, যথাক্রমে ১০ লক্ষ ও ২৫ লক্ষ টাকার। এছাড়া, তাঁর কাছে আছে ৫০ গ্রাম সোনা। বাইকটির মূল্য ৮৬,০০০ টাকা।সবচেয়ে বড় তথ্য হলো, তাঁর একটি কৃষিজমি রয়েছে, যার বাজারমূল্য ৭২,১৩,০৬৫ টাকা।পবিত্র করের স্ত্রীর হাতে বর্তমানে নগদ আছে ২৮,২৭৪ টাকা। এছাড়া তাঁর কাছে ৪০০ গ্রাম সোনা, যার বাজারমূল্যও নজরকাড়া। মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০,৭৩,০৪১ টাকা।হলফনামা অনুযায়ী, পবিত্র করের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মোট ৪টি এফআইআর দায়ের আছে একটি ২০২০ সালে, দুটি ২০২১ সালে এবং একটি ২০২৩ সালে। এছাড়া, হলদিয়ার আদালতেও বিভিন্ন সময়ে মামলা দায়ের হয়েছে: ২০২০ সালে এসিজেএম আদালতে তিনটি মামলা, ২০২১ সালে এডিজে ও এসিজেএম আদালতে একটি করে মামলা এবং ২০২৩ সালে এসিজেএম আদালতে আরও একটি মামলা রুজু হয়েছে।


