32 C
Kolkata
Sunday, March 29, 2026
spot_img

ঘৃণার রাজনীতি জোরালো : নীরব শীর্ষ আদালত !

স্নেহা পাল, দিল্লি: আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্যে প্রশ্নের মুখে শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। মুসলিমদের লক্ষ্য করে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য বক্তব্য এলেও কোনো আইনি পদক্ষেপের নজির দেখা যায়নি।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার Special Intensive Revision প্রসঙ্গে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, কয়েক লক্ষ ‘মিয়া’ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। একাধিক সভা ও প্রকাশ্য বক্তব্যে তিনি ‘মিয়া’ শব্দ ব্যবহার করে বাংলাভাষী মুসলিমদের নিশানা করেছেন, যা নিয়ে রাজনৈতিক ও নাগরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালে এক নাগরিক অধিকারকর্মী জেলা পুলিশের কাছে FIR এর আবেদন করলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে উল্ল্যেখযোগ্য অধ্যাপক আলি খান মাহমুদাবাদের মামলা। সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্টের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে FIR হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়, যদিও তিনি পরে জামিন পান।

২০২৩ সালের এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে ঘৃণামূলক ভাষণের ক্ষেত্রে অভিযোগের অপেক্ষা না করে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে FIR দায়ের করতে হবে। উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য হিংসা রুখে দেওয়া। কিন্তু সেই নির্দেশ বাস্তবে প্রয়োগ হচ্ছে কিনা তা নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

ঘৃণার ভাষার ক্ষেত্রে ক্ষমতার পরিচয়ই শেষ কথা?

যেখানে আদালত ‘ডগ হুইসেল’ ধরনের বক্তব্যেও সতর্কতা দেখাচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্য ও সরাসরি বিভাজনমূলক ভাষণের ক্ষেত্রে নীরবতার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আইনি মহলে। উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি ইউজিসি রেগুলেশন, ২০২৬ স্থগিত রেখেছেন এই যুক্তিতে যে তা সমাজে বিভাজন তৈরি করতে পারে।

আসামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক আর বাকস্বাধীনতার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। আসামে বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই বিতর্ক রাজনৈতিক গুরুত্ব পাচ্ছে। আইনের শাসন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং শীর্ষ আদালতের নিজের নির্দেশ কার্যকর করার দায় নিয়েও কথা উঠছে।

আরও পড়ুন:

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

আরও পড়ুন