Aaj India Desk, সুরভী কুন্ডু: গোঘাট (Goghat)এর মাটিতে এখন যেন এক নতুন ধরনের রাজনীতি চলছে যেখানে বাস্তবের সমস্যা নয়,কল্পনার চিড়িয়াখানাই হয়ে উঠছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কেন্দ্রবিন্দু। নির্মল মাঝি (Nirmal Majhi),যিনি সম্প্রতি গোঘাট (Goghat) বিধানসভার প্রার্থী, কয়েকদিন আগে এক বাড়িতে ঢুকে এক মহিলাকে “হে মা অন্নপূর্ণা, হে মা লক্ষ্মী” বলে দুচামচ ভাত চেয়ে খাওয়ার দৃশ্য তৈরি করেছিলেন। রাজনৈতিক আবেগে ভরপুর এই অভিনয় অনেকের চোখে “সরলতা”, আবার অনেকের চোখে নিছক “স্টান্ট”।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। তার পরেই এলো আরও বড় চমক গোঘাটে নাকি হবে জু! তাও আবার একশোটা হরিণ, চারটে জিরাফ, চারটে জেব্রা, পাঁচটা হাতি,পরিযায়ী পাখি সব মিলিয়ে যেন একেবারে আফ্রিকার সাফারি পার্ক!এখানেই প্রশ্নটা কড়া হয়ে উঠছে গোঘাটে কি তাহলে আর কোনও সমস্যা নেই?রাস্তা ভাঙা? জল সমস্যা? কর্মসংস্থান? ১০০ দিনের কাজের বকেয়া?এই তো সে দিনই আলু নিয়েও নানা রঙ্গ দেখলো গোঘাটবাসী ,সব মিটে গেছে?না কি এগুলো এতটাই “ছোট” সমস্যা যে এখন সরাসরি জিরাফ -হাতির স্তরে উন্নয়ন পৌঁছে গেছে?অনেকেই কটাক্ষ করে বলছেন “ভাত নেই তো কেক খাও” এই দর্শনই কি এখন গোঘাটে বাস্তবায়িত হচ্ছে?কারণ যেখানে মানুষ এখনও ন্যূনতম পরিষেবা নিয়ে লড়ছে, সেখানে জু বানানোর প্রতিশ্রুতি শুনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে এটা উন্নয়ন, নাকি ভোটের আগে রঙিন স্বপ্ন দেখানোর পুরনো কৌশল?রাজনীতিতে আবেগ, প্রতীক, নাটকীয়তা এসব নতুন নয়। কিন্তু যখন সেই নাটক বাস্তব সমস্যাকে ঢেকে দিতে শুরু করে, তখন সেটাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বিতর্ক।
গোঘাটের সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রশ্ন “আমাদের দরকার কাজ, রাস্তা, জল ,নাকি জিরাফ?”শেষ পর্যন্ত ভোটারই ঠিক করবেন তারা বাস্তবের উন্নয়ন চান, নাকি কল্পনার চিড়িয়াখানা।কারণ স্বপ্ন দেখানো সহজ, কিন্তু পেট ভরানোই এখনও কঠিন।
গোটা পশ্চিমবঙ্গের এক বড় বাস্তবতা কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া। ইটভাটা, নির্মাণক্ষেত্র, হোটেল, কারখানা রাজ্যের অসংখ্য যুবক-যুবতী আজ “পরিযায়ী শ্রমিক” পরিচয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য। এই কঠিন বাস্তবের মধ্যেই এ যেনো এক অদ্ভুত প্রতিশ্রুতি গোঘাটে নাকি তৈরি হবে জু, যেখানে থাকবে “পরিযায়ী পাখি”!যেখানে মানুষ কাজের খোঁজে পরিযায়ী, সেখানে পাখি দেখিয়ে মন ভোলানোর চেষ্টা এটা কি উন্নয়ন, না ব্যঙ্গ?বাস্তব ছবিটা খুবই কঠিন অনেক বাড়িতে ছেলে-মেয়েরা ঘরে নেই, কারণ তারা অন্য রাজ্যে রোজগারের জন্য ছুটে গেছে। বাবা-মা ফোনের ওপারে কথা বলে দিন কাটান। উৎসব মানেই “ফিরতে পারবে তো?”এই চিন্তা।সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যদি বলা হয়”এখানে জু হবে, পরিযায়ী পাখি থাকবে” তাহলে সেটা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের কাছে কেমন শোনাবে?
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন মন ভালো করার জন্য কি পরিযায়ী পাখি দরকার, না ঘরে ফেরার মতো চাকরি?কারণ বাস্তবটা হলো মানুষের মন ভালো হয় যখন ঘরের ছেলে ঘরে বসে কাজ পায়, নিজের মাটিতে রোজগার করতে পারে, সংসারের পাশে থাকতে পারে। জিরাফ, জেব্রা, পাখি, হাতি এসব চোখের আরাম হতে পারে, কিন্তু পেটের সমাধান নয়।


