Aaj India Desk, মুর্শিদাবাদ: বিহারের মতো বাংলাতেও ভোট ভাগাভাগির ষড়যন্ত্র চলছে।এমনই অভিযোগ তুলে সাগরদীঘির সভা থেকে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মানুষকে সতর্ক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। তিনি বলেন, “ওদের প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিজেপির লক্ষ্য ভোট প্রক্রিয়া বানচাল করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা -এই ফাঁদে পা দেবেন না।”
ভোট ঘোষণার পর আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব আর রাজ্যের হাতে নেই বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আইনশৃঙ্খলা এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে, আর তারা অমিত শাহর (Amit Shah) কথাতেই চলে। চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি, ডিজি -সব বদলে দেওয়া হয়েছে। সিপি, ডিএম, এসপি -সবারই পরিবর্তন হয়েছে। আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে এখানে কার্যত ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অন্যদিকে রাজ্যপাল -এই দুইয়ের মধ্যে চলছে সব।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “গতকাল রাত ১২টার সময় জানতে পারি বিচারকদের ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। মানুষের ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু বিজেপির (BJP) গেম প্ল্যান অনুযায়ী মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর এমনকি আমার ভবানীপুরেও সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ নাম কাটা হয়েছে। সেই কারণেই আমরা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম। আদালত বলেছে এটা হতে পারে না এবং ট্রাইবুন্যাল গঠন করেছে। যাদের নাম বাদ পড়েছে তারা আবেদন করবেন। ১৩টি নথির বাইরে অন্য ডকুমেন্ট থাকলেও তা জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা আইনজীবীর ব্যবস্থাও করব।”
মালদহে বিচারকদের ঘেরাও প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “লড়াইটা শান্তিপূর্ণ হতে হবে। রাস্তা অবরোধ করা যাবে না, বিচারকদের ঘেরাও করা যাবে না। এর জন্যই সুপ্রিম কোর্ট সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপির উদ্দেশ্যই হলো নির্বাচন ভেস্তে দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা। আপনারা কি সেটা চান, না শান্তি চান? আমাকে বিশ্বাস করলে প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে কিছু সাম্প্রদায়িক লোক ঢুকেছে, যারা বিজেপির টাকায় হায়দরাবাদ থেকে এসে ভোট ভাগাভাগির চেষ্টা করছে। বাংলাকে বাঁচান, মুর্শিদাবাদকে বাঁচান। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না -আমি আছি। কিন্তু যদি আইন হাতে তোলেন, সিবিআই গ্রেফতার করবে। এখন আমার হাতে আইন নেই, সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমন নির্বাচন কমিশন আগে দেখিনি। আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য কমিশনই দায়ী -তারা বিচারকদের নিরাপত্তাও দিতে পারেনি।” অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লজ্জা করে না? একদিকে নাম কাটছেন, অন্যদিকে ভোট কাটছেন। একদিকে এনআইএ, অন্যদিকে সিবিআই ব্যবহার করছেন। আপনাদের মধ্যেও গদ্দার আছে। ভোটের আগে মন্দির-মসজিদ কেন? কত টাকা পেয়েছেন আপনারা? হায়দরাবাদ থেকে নেতা এনে বিহারের মতো মুসলিম ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা চলছে এখানেও।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “মালদার মানুষ শান্ত থাকুন। শুক্রবার জুম্মার দিন -কেউ যেন প্ররোচনায় পা না দেন। না হলে সিবিআই বা এনআইএ গ্রেফতার করতে পারে। ভোটের আগেই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, বাকি যা আছে তাও হারাবেন। এখন কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগও করছে না—চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি কেউই নয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “বিজেপির লক্ষ্য নির্বাচন বাতিল করা। যদি তা হয়, ভবিষ্যতে কারও ভোটাধিকার থাকবে না। বাংলাকে দখল করে বিক্রি করে দেবে। এসআইআর (SIR) নিয়ে যখন মানুষের নাম কাটা হচ্ছিল, তখন আমরা রাস্তায় নেমে সুপ্রিম কোর্টে লড়েছি। তখন অন্য নেতারা কোথায় ছিলেন? শুধু মাথায় পাগড়ি বাঁধলেই নেতা হওয়া যায় না। ভোটের আগে মসজিদ বানানোর নাটক চলছে। সাহস থাকলে যেখানে মসজিদ ভাঙা হয়েছে, সেখানে গিয়ে তৈরি করুন। মানুষের ক্ষোভ স্বাভাবিক, কিন্তু ৮০-১০০ শতাংশ ভোট কাটা হয়েছে -তা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা আমরা করছি। আপনারা সহযোগিতা করুন, রাস্তাঘাট বন্ধ করবেন না।”
তিনি সতর্ক করেন, “এসআইআর সর্বনাশ ডেকে আনবে, এরপর এনআরসি আসবে। সবকিছু হাতছাড়া হয়ে যাবে। বিজেপি সব কেড়ে নেবে। তাই হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে থাকুন। আমি মানুষের জন্য লড়ছি, কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে। যাদের নাম নেই তারা আবেদন করুন, সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ দিয়েছে।”
শেষে তিনি বলেন, “একটি ঘটনার জন্য পুরো রাজ্যের বদনাম হচ্ছে কেন? আইপিএস-আইএএসদের মধ্যে আমি বিভাজন করি না। নতুন চিফ সেক্রেটারি, হোম সেক্রেটারি, ডিজি -সবই আপনারা নিয়োগ করেছেন। তারা বাংলার বাস্তবতা জানবে কীভাবে? সবটাই অমিত শাহর চক্রান্ত। তাঁর ইস্তফা দাবি করছি। তিনি সীমান্ত সামলাতে পারেন না -একজন অপদার্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নোটবন্দির পর এখন ভোটবন্দি করছে। আপনারা কি আমাকে বিশ্বাস করেন না? বাংলাকে বিজেপির হাতে তুলে দিতে চান? যদি না চান, তাহলে কথা দিন -আপনারা শান্ত থাকবেন।”


