Aaj India Desk,পশ্চিম মেদিনীপুর: রাজনীতির মঞ্চে ‘মাছ’ এখন নতুন অস্ত্র! ভোটের আগে হঠাৎই ‘মাছ কার্ড’ বিক্রেতারাও বলছেন, এ কেমন রাজনীতি? তবে কি এবার ভোটে জিততে মাছই ভরসা?রাজনীতির খেলায় বাজারের ইলিশ রুইও এখন প্রচারের হাতিয়ার!
বাম আমলে মৎস্য উৎপাদনে শীর্ষে থাকা বাংলার ছবিটা এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে এমনটাই দাবি তুললেন বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh)। তাঁর অভিযোগ, আজ রাজ্যের বাজারে স্থানীয় মাছের জায়গা দখল করে নিয়েছে অন্ধপ্রদেশ( Andhra Pradesh) থেকে আসা মাছ। সোমবার খড়গপুর (Kharagpur)-এ প্রচারে এসে তিনি শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়েই থেমে থাকেননি, ঢুঁ মারেন স্থানীয় মাছ বাজারেও। তবে চমক ছিল অন্য জায়গায় অন্যান্য প্রার্থীদের মতো হাতে মাছ তুলে প্রতীকী ছবি তোলেননি তিনি, এমনকি মাছ কেনেনওনি। বরং বাজার থেকে কিনেছেন পটল, এঁচোড়, শাক, নিমপাতা রাজনীতির ভিড়ে যেন এক ভিন্ন বার্তা! সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। বাজারের মধ্যেই দিলীপের সরাসরি প্রশ্ন, “মাছ অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে আনতে হবে কেন?” তাঁর আশ্বাস, ক্ষমতায় এলে বাংলাকে আবার মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের কটাক্ষ মাছ না কিনেই ‘মাছের রাজনীতি’! ভোটের বাজারে তবে কি প্রতীকটাই আসল, নাকি বাস্তব বদল?
বাজারে রাজনীতির উত্তাপ তখনও ঠান্ডা হয়নি, তারই মাঝে নতুন পর্ব! বিজেপির প্রচার মিটতেই একই বাজারে হাজির খড়্গপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার ( Pradip Sarkar)।খবর পেয়ে খোঁচা দিতে ছাড়েননি দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর মন্তব্য,”আমার পরেই আমার বন্ধু প্রদীপ এসে গিয়েছে, টেনশনে পড়ে যাচ্ছে!” বন্ধুত্বের মোড়কে ছুঁড়ে দিলেন রাজনৈতিক কটাক্ষ।
তবে পাল্টা দিতে দেরি করেননি প্রদীপও। তাঁর জবাব আরও তীব্র ” উনি এখনই বাজারে যাতায়াত সেরে নিন। কারণ ৪ মে-র পর আর খড়্গপুরে বাজার করতে হবে না, তখন কলকাতার নিউ টাউনে বাজার করবেন।”এখানেই থামেননি তিনি। আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি আক্রমণ, “এখন ভোটের স্বার্থে মাছ কিনবেন, আর অন্য বিজেপি নেতারা বলবেন মাছ খাওয়া যাবে না এ তো স্পষ্ট দ্বিচারিতা!”একই বাজার, দুই প্রার্থী আর মাঝখানে ‘মাছ’কে ঘিরে রাজনীতির কাঁটা আরও গভীরে।বাঙালি মাছ খাবে কি না এখন সেটাই বড় প্রশ্ন !কেউ বাজারে গিয়ে মাছ কিনছেন, কেউ আবার বিক্রি করছেন, কেউ কাতলা ঝুলিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন ভোটের ময়দান যেন মাছের হাট!হাস্যকর লাগলেও প্রশ্নটা সিরিয়াস আসল সমস্যা ছেড়ে রাজনীতি কি এখন ‘মাছেই’ আটকে গেল?
কিছুদিন আগেই পুরীর গেটে দিলীপ ঘোষ(Dilip Ghosh) কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়ে ছিলেন একদল মহিলা। সেই ঘটনাকে ঘিরেই এবার নতুন রাজনৈতিক পর্ব। রবিবার ওই মহিলাদের সংবর্ধনা দিলেন খড়্গপুরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার (Pradip Sarkar)।প্রদীপের সাফ বার্তা দিলীপ যেখানে যেখানে প্রচারে যাবেন, সেখানেই মহিলারা বিক্ষোভ দেখাবেন। তাঁর কথায়, “এই দুর্গা বাহিনী, ঝাঁসি বাহিনী-কে কুর্নিশ জানানো উচিত।”
তবে এই অবস্থানকে ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন এভাবে কি বিক্ষোভকে আরও উসকে দেওয়া হচ্ছে? পাল্টা তোপ দেগেছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল পরিকল্পিতভাবেই মহিলাদের পাঠিয়েছিল। ভয় দেখানো, পোস্টার ছেঁড়া এসব করে কি আটকানো যাবে? সমাজ বিরোধীদেরই সম্মান জানানো হচ্ছে।”একই ঘটনায় দুই শিবির একপক্ষের কাছে প্রতিরোধ অন্যপক্ষের কাছে পরিকল্পিত বিক্ষোভ। আর মাঝখানে খড়্গপুরের মানুষ যারা নীরবে সব দেখছেন।
খড়্গপুরে ভোটের ময়দান যেন ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে কটাক্ষের রণক্ষেত্রে। এ দিন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার (Pradip Sarkar)-এর সমর্থনে পথসভায় এসে তীর ছুড়লেন তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)।নাম না করেই দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)-কে নিশানা করে তাঁর খোঁচা “ওনাকে বিধায়ক করলে খড়্গপুরে নয়, কলকাতায় খুঁজতে যেতে হবে! ইকো পার্কে জগিং করতে হবে।”
এরপরেই চায়ে পে চর্চা প্রসঙ্গ টেনে সায়নীর মন্তব্য, “এক জন চায়ে পে চর্চা করেন, আর প্রদীপ আপনার বাড়ির মানুষ।” শুধু স্থানীয় রাজনীতি নয়, জাতীয় স্তরেও ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, “আগামিদিনে দিদি, মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-ই প্রধানমন্ত্রী হবেন দেখে নেবেন।”তবে পাল্টা আক্রমণ আসতে দেরি হয়নি। বিজেপি নেতা অরূপ দাস (Arup Das ) কটাক্ষ করে বলেন, “সায়নী ঘোষের মুখে দিলীপ ঘোষের সমালোচনা মানায় না। মানুষ জানেন তৃণমূল কেমন দল, দুর্নীতিতে ভরা। তাই মানুষ ইতিমধ্যেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন।”একই মঞ্চে প্রতিশ্রুতি, পাল্টা প্রতিশ্রুতি আর তার মাঝেই তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক সুর। এখন দেখার ৪ মে ভোট ব্যাংকের অংক কি বলছে ?


