Aaj India Desk, উত্তর ২৪ পরগনা: দুয়ারে ভোট, মাঠে নেমে পড়েছেন প্রার্থীরা – চলছে জোরকদমে প্রচার। কিন্তু তৃণমূলের অন্দরে কি সত্যিই থামছে না ক্ষোভের আগুন? সেই প্রশ্নই আরও জোরালো করলেন বাদুড়িয়ার (Baduria)বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিমের ( Kaji Abdur Rahim) সিদ্ধান্ত। দল তাঁকে এবার প্রার্থী করেনি, আর সেই আঘাত থেকেই অবশেষে তৃণমূল (TMC) ছাড়ার ঘোষণা করলেন তিনি।
এর আগেও একবার টিকিট না পেয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রহিম। এবার আর রাখঢাক না রেখে সরাসরি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকেই দল ছাড়ার কথা জানালেন। দলের অন্দরে বাড়তে থাকা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, যড়যন্ত্রের অভিযোগ – সবকিছু নিয়েই সরব তিনি। বিশেষ করে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ২০২১ সালের কঠিন সময়ে যারা দলের পাশে ছিল, তাদেরই এবার বঞ্চিত করা হয়েছে। উল্টে যারা একসময় দলের বিরোধিতা করেছে, তারাই পেয়েছে টিকিট – এই নিয়েই ক্ষোভে ফুঁসছেন তিনি। উপরতলার নেতৃত্বকেও একাধিকবার নিশানা করেছেন নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।
দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে অভিমান আর ক্ষোভ মিলিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি সবসময় সত্য, ন্যায় এবং আদর্শের পথে চলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে জানাতে বাধ্য হচ্ছি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই আদর্শ ও বাস্তবতার মধ্যে যে গভীর ফারাক তৈরি হয়েছে, তা আর উপেক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। বারবার অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে অত্যন্ত ব্যথিত।’ এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও যোগ করেন, ‘আমি কখনও আপোসের রাজনীতি করিনি, আর ভবিষ্যতেও করব না। আমার পিতার আদর্শ আমাকে শিখিয়েছে – অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, সত্যের পথেই অটল থাকতে। সেই কারণেই আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করলাম। আমি মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব – এটাই আমার অঙ্গীকার।’
এদিকে ঠিক এই দিনেই বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সন্দেশখালিতে আসছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সফরের আগেই রহিমের এই আকস্মিক দলত্যাগ ঘিরে বসিরহাটের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। রহিমের পরিবর্তে এবার দলের প্রার্থী হিসেবে ময়দানে নামানো হয়েছে বুরহানুল মুকাদ্দিম লিটনকে।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতিকে চিঠি লিখে নিজের দলত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন রহিম, আর সেই চিঠিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রসঙ্গত, এবারের বসিরহাটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় দেখা গেছে বড়সড় চমক। মোট ৭টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই বাদ পড়েছেন বর্তমান বিধায়করা – যা ঘিরে দলের অন্দরে অস্বস্তি ক্রমেই বাড়ছে।


